মাদারীপুর শহরে একই রাতে পৃথক দুই স্থানে সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। আধিপত্য বিস্তার ও কিশোরদের বিরোধকে কেন্দ্র করে টানা সহিংসতায় শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে মাদারীপুর সদর মডেল থানা সংলগ্ন সার্বিক কাউন্টারের সামনে হরিকুমারীয়া এলাকার কিশোরদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে প্রশাসন সমালোচনার মুখে পড়ে।
এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাতে দেড়টা পর্যন্ত সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকায় আরো বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আক্তার হাওলাদার ও হাসান মুন্সির সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুইপক্ষ টানা তিন ঘণ্টা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় একটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকায় ‘সন্ত্রাসী ঢুকেছে’ বলে মাইকিং করা হয়। মাইকের এমন ঘোষণায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক আরো বেড়ে যায়। অনেকেই ঘর থেকে বের না হয়ে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন।
সংঘর্ষে অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন। পুরো এলাকায় নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তিনি বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষ প্রায়ই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
একই রাতে পরপর দুই সংঘর্ষের ঘটনায় জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।