সারা বাংলা

ঈদে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিশ্চিতে সক্রিয় শিল্প পুলিশ

চলমান রমজান ও ঈদুল ফিতর সামনে রেখে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা ঠেকাতে এবং পোশাক শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ও সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে শিল্প পুলিশ। 

ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার তালিকা তৈরি, মালিক-শ্রমিক বৈঠক এবং সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।

রবিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় আল-ফারাবী ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘‘ঈদ সামনে রেখে যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আগেভাগেই মাঠে নামা হয়েছে।’’ 

তিনি বলেন, ‘‘শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তি বজায় রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এ জন্য শ্রমিক সংগঠনের নেতা ও কারখানার মালিকদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করছি।’’ 

পুলিশ সুপার জানান, আগামীকাল সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পোশাক মালিকদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে। সেখানে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিসহ শিল্প পুলিশের হেডকোয়ার্টারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। যেসব কারখানা ঈদের আগে বেতন দিতে সমস্যায় পড়তে পারে, সেগুলোর বিষয়ে ওই বৈঠকে করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

‘‘আমাদের অবস্থান পরিষ্কার, শ্রমিক ভাই-বোনেরা যেন সময়মতো বেতন-বোনাস পায় এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ করতে পারে।’’ বলেন পুলিশ সুপার। 

বন্ধ, লে-অফ বা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা কারখানাগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ তালিকা নিয়মিত সরকারের কাছে পাঠানো হচ্ছে। নতুন সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং কীভাবে কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা যায় ও বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নিচ্ছে। শিগগিরই কার্যকর সিদ্ধান্ত আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল হক সজীব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফয়সাল হোসেন, ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোখলেছুর রহমান ইলিয়াস শাহী, আশুলিয়া থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. আব্দুল হামিদ, আশুলিয়া থানা কৃষক দলের সদস্য সচিব আবুল হোসেন মুন্সি, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলী এবং ডংলিয়ন ফ্যাশন (বিডি) লিমিটেডের মহা পরিচালক (প্রশাসন) রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা।