সারা বাংলা

পাবনায় ব্যাংক থেকে কৌশলে গ্রাহকের ৩ লাখ টাকা ছিনতাই

ব্যাংক থেকে পেনশনের তিন লাখ টাকা তুলে বের হচ্ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী মনিরুল ইসলাম (৭০)। এ সময় অপরিচিত এক ব্যক্তি ‌ ‘পিঠে ময়লা লেগেছে’ বলে তাকে পরিষ্কার করতে বলে। সরল বিশ্বাসে মনিরুল ব্যাংকের ওয়াশরুমে যান ময়লা পরিষ্কার করতে। তখন ছিনতাইকারী চক্রটি কৌশলে তার ব্যাগ থেকে তিন লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

পাবনায় সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী মনিরুল ইসলামের (৭০) বাড়ি বেড়া উপজেলার হরিদেবপুর গ্রামে। তিনি ঢাকা সরকারি বিজি প্রেসের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। 

ভুক্তভোগী বৃদ্ধ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘টাকা তুলে বের হওয়ার সময় এক ব্যক্তি আমার পিঠে ময়লা লেগেছে বলে জানায়। পরে ভেতরের ওয়াশরুমে গিয়ে পরিষ্কার হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। বিষয়টি বিশ্বাস করে আমি ওয়াশরুমের দিকে গেলে ওই ব্যক্তি পিছু নেয়। হাত ধোয়ার সময় সুযোগ বুঝে আমার ব্যাগ থেকে তিন লাখ টাকার একটি বান্ডিল নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে বুঝতে পারি, ওই ব্যক্তি ছিনতাইকারী।’’

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘চোর চোর বলে ধাওয়া দিলেও তাকে ধরতে পারিনি।’’ তার অভিযোগ, তিনি চোর চোর বলে পিছু নিলেও ব্যাংকের কর্মচারী, গেটে থাকা আনসার সদস্য কিংবা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য কেউ এগিয়ে আসেননি।

ঘটনার পর সোনালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। ফুটেজে দেখা যায়, সন্দেহভাজন চারজনের চক্র টাকার বান্ডিল হাতে দ্রুত ব্যাংক থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি পাবনা সদর থানায় জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে ব্যাংকে দায়িত্বরত আসার সদস্য কামরুজ্জামান বলেন, ‘‘তিনি (মনিরুল) জোরে জোরে চোর চোর বলে চিৎকার করলে অবশ্যই আমরা বুঝতে পারতাম, চেষ্টা করতাম ধরার। তিনি সেরকম কিছু বলেননি। দৌঁড়ে আসার পর বাইরে গিয়ে বলেন চোর। ততক্ষণে ছিনতাইকারী পালিয়ে যায়।’’ একই কথা জানান দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য রাব্বি।

সোনালী ব্যাংক পাবনা প্রধান শাখার শাখা ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, '‘রবিবার-ই আমি এখানে যোগদান করেছি। এটা আমি যোগদান করার কিছু সময়ের আগের ঘটনা। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশকে জানিয়েছি। তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। এর বেশি আমাদের কিছু করার নেই।’’ 

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন বলেন, ‘‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। ডিবি পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে্’’  

ভুক্তভোগী মনিরুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ওসি। তিনি আশা করছেন, খুব দ্রুত ছিনতাইকারী চক্রকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।