সারা বাংলা

বান্দরবানে জেএসএসের সঙ্গে গোলাগুলি, নিহত ১ 

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় জেএসএস (মূল) সশস্ত্র দলের সদস্যদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে হ্লামংনু মার্মা নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে সাবমেশিনগান (এসএমজি), ম্যাগাজিন ও গুলি জব্দ হয় বলে নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র জানা গেছে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে ‌‘বাংলাদেশ আর্মি’ ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছেন রোয়াংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম. সাবের আহমেদ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে রোয়াংছড়ি উপজেলার মুরং বাজার এলাকায় জেএসএসের সদস্যরা অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের সময় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের সময় সশস্ত্র ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করে এবং সেনা টহল দলের ওপর গুলি ছোড়ে। সেনা সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালিয়ে তাদের ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে সন্দেহভাজনরা একটি স্কুলঘরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে এবং পরে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। 

ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ইউনিফর্ম পরিহিত হ্লামংনু মার্মা নামে এক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে জেএসএস (মূল) দলের সদস্য বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পুলিশের সহায়তায় ওই ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে একটি সাবমেশিনগান (এসএমজি), ১৪৩ রাউন্ড এসএমজি গুলি, ১৪ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৫ রাউন্ড ব্ল্যাঙ্ক অ্যামোনিশন, দুটি অস্ত্রের ম্যাগাজিন ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলেও  বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার দিলীপ চৌধুরী বলেন, “রাত সোয়া ৮টার দিকে এক ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। পরে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

রোয়াংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম. সাবের আহমেদ জানান, সেনাবাহিনীর সদস্যরা আহত অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

তিনি জানান, বর্তমানে মরদেহটি হাসপাতালেই রয়েছে। এখন পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির পরিবারের কেউ মরদেহ গ্রহণ করতে আসেননি। সেনাবাহিনী বা নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।