বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম পদ্মনগর। সবুজে ঘেরা শান্ত এই গ্রামে যে কাউকে অবাক করবে আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও মুসলিম ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন একটি মসজিদ। এই মসজিদটি দেখতে ও নামাজ পড়তে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে পদ্মনগর গ্রামে আসেন নানা বয়সী মানুষ।
২০২২ সালে নির্মিত এই মসজিদটির নাম ইজারা পদ্মনগর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। স্থানীয়দের ভাষ্য, আশপাশে এমন নান্দনিক ও পরিকল্পিত মসজিদ না থাকায় দূর-দূরান্তের বহু মানুষ এখানে এসে নামাজ আদায় করেন। বিশেষ করে জুমা ও রমজান মাসে মুসল্লিদের উপস্থিতি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়।
দুইতলা বিশিষ্ট মসজিদটির স্থাপত্যে রয়েছে ভারসাম্য ও পরিমিত সৌন্দর্য। প্রধান গম্বুজটি দূর থেকেই নজর কাড়ে। সাদামাটা নকশায় নির্মিত দেয়াল ও প্রশস্ত প্রবেশপথ ভবনটিকে দিয়েছে এক রাজসিক আবহ। ভেতরে মার্বেল পাথরের মেঝে, তিন পাশে লোহার গ্রিলের মাধ্যমে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশের সুযোগ, সব মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে এক প্রশান্ত পরিবেশ। দিনের আলোয় ভেতরটা থাকে উজ্জ্বল ও নির্মল।
মসজিদের মেহরাব নির্মাণ করা হয়েছে পবিত্র কাবার আদলে, যা মুসল্লিদের মনে বাড়তি আবেগ ও একাগ্রতা তৈরি করে। মসজিদের সামনে রয়েছে প্রশস্ত খোলা প্রাঙ্গণ, যেখানে অতিরিক্ত মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে পারেন। পূর্ব ও উত্তর পাশে সড়ক, পশ্চিমে পদ্মনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ এবং দক্ষিণে কবরস্থান। চারপাশের খোলা পরিবেশ মসজিদের সৌন্দর্যকে আরো উন্মুক্ত করে তুলেছে। পূর্ব পাশে রয়েছে ইসলামী পাঠাগার ও ওযুখানা।
পদ্মনগর গ্রামের ব্যবসায়ী সরদার জাহিদুল ইসলামের ব্যক্তিগত অর্থায়নে মসজিদটি নির্মিত হয়েছে। ২০১৮ সালে পুরনো ও জরাজীর্ণ মসজিদের পরিবর্তে আধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেন তিনি। প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিকের তিন বছরের প্রচেষ্টায় ২০২২ সালে কাজ সম্পন্ন হয়।
উদ্যোক্তা সরদার জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং এলাকার মানুষের সুবিধার কথা ভেবেই মসজিদটি নির্মাণ করেছি। ছোট মসজিদে মুসল্লিদের কষ্ট হতো। এখন সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করতে পারছেন।”
মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা ইমরান হোসাইন বলেন, “এই মসজিদকে কেন্দ্র করে ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আশপাশের এলাকায় এমন সুন্দর মসজিদ না থাকায় অনেকেই এখানে এসে নামাজ আদায় করেন।”