সারা বাংলা

জীবননগরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ব্যক্তির মৃত্যু 

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে আহত হাফিজুর রহমান (২৫) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর হাসাদহ বাজারের কামিল মাদ্রাসার সামনে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। 

নিহত হাফিজুর রহমান একই উপজেলার সুটিয়া গ্রামের মৃত ওয়াহেদ মিয়ার ছেলে এবং বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের ছোট ভাই। তিনি পেশায় জুয়েলার্স মালিক ছিলেন।

আহতরা হলেন- জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান (৪৫), জামায়াত কর্মী খায়রুল ইসলাম (৫০) ও মাহফুজ (২৫), হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান (৩৫) ও তার বাবা জসীম উদ্দীন (৬০)। আহতদের মধ্যে জামায়াতের ইউনিয়ন আমির মফিজুরকে ঢাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সংঘর্ষের পর আহতদের জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে গুরুতর আহত হাফিজুরকে যশোরে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

জামায়াতের জেলা আমির ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমীন জানান, শনিবার সন্ধ্যায় হাসাদহ বাজারের কামিল মাদ্রাসার সামনে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসানসহ তার লোকজন পরিকল্পিতভাবে নিরপরাধ জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। 

তিনি আরো জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচারের দাবিতে রবিবার (১ মার্চ) সকাল ১০টায়  জীবনগরে বিক্ষোভের মিছিল ও প্রতিবাদ সভার ডাক দেওয়া হয়েছে। 

জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খোকোন জানান, হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান নির্বাচনের একদিন পর সুটিয়া গ্রামে গেলে জামায়াত কর্মী সোহাগ, হাফিজসহ অন্যরা তার ওপর হামলা চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেহেদী হাসানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এরই জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলাইমান হক জানান, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হবে। জড়িতদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।