সারা বাংলা

নড়াইলে পুষ্টির চাহিদা মেটাতে বিষমুক্ত বিষমুক্ত সবজি-ফলের বাগান

নড়াইল পৌরসভার ভাদুলীডাঙা এলাকায় পল্লব মিয়ার বাড়ির সবুজ আঙিনা এখন স্বনির্ভরতার প্রতীক। মাত্র ২০ শতাংশ জমিতে গড়ে তোলা বিষমুক্ত ফল ও শাক-সবজির বাগানটি শুধু তার পরিবারের পুষ্টির চাহিদাই পূরণ করছে না, আশপাশের মানুষের কাছেও হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ। বাগানজুড়ে রয়েছে নানা ধরনের ফলগাছ ও শাক-সবজি।

২০০১ সালে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর লক্ষ্য নিয়েই শুরু করেন পল্লব মিয়া। ধীরে ধীরে নিজের শ্রম, সময় ও যত্নে তিনি গড়ে তুলেছেন বৈচিত্র্যময় এ বাগান। রাসায়নিক সার বা ক্ষতিকর কীটনাশক ছাড়া, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষাবাদই তার মূল লক্ষ্য।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পল্লব মিয়া জানান, সুস্থ থাকতে পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প নেই। পরিবারের সদস্যদের জন্য তিনি বিষমুক্ত শাক-সবজি ও ফল উৎপাদন করছেন। তার বাগানে রয়েছে গাজর, বালিয়া শাক, ডাটা শাক, বাঁধাকপি, থানকুনি, ধনেপাতা, টমেটো, মরিচ, চুইঝাল, ওলকপি, পেঁপে, পুদিনা, মিষ্টি কুমড়া, লালশাক, পালংশাক, কাটানোটে, পোড়ানোটে, মূলা, রেড ক্যাবেজ, ফুলকপি, বিভিন্ন জাতের কচু, পুঁইশাক, শসা ও ক্যাপসিকাম।

ঋতুভেদে বদলে যায় সবজির ধরন। প্রতিটি মৌসুমেই তার বাগানে কোনো না কোনো সবজি পাওয়া যায়। ফলের দিক থেকেও সমৃদ্ধ এই আঙিনা। এখানে রয়েছে মালবেরি, রামবুটান, গোলাপজাম, কলা, পেয়ারা, আম, আপেলকুল, ঝাড়লেবু, বাতাবি লেবুসহ নানা ফলগাছ। পাশাপাশি দারুচিনি, তেজপাতা ও এলাচের মতো মসলাজাতীয় গাছও রয়েছে।

পল্লব মিয়া জানান, গত ২৬ বছর ধরে তিনি বাজার থেকে কোনো শাক-সবজি কেনেন না। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত উৎপাদিত সবজি আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের উপহার দেন। তার মতে, বাড়ির আঙিনায় সামান্য জায়গা কিংবা ছাদ থাকলেই সহজে বিষমুক্ত সবজি বাগান করা সম্ভব। এতে পরিবারের পুষ্টি নিশ্চিত হয়, খরচও কমে।

নড়াইল সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বলেন, “এ ধরনের পারিবারিক পুষ্টি বাগান একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। সামান্য জায়গা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব। এতে খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরিবারের সুস্বাস্থ্যও রক্ষা পায়।”