দোলপূর্নিমার উৎসবকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়া আঁখড়াবাড়িতে তিন দিনব্যাপী সাড়ম্বরে উদযাপিত হয় বাউল সম্রাট লালন শাহের স্মরণোৎসব। সাধু-গুরু, ভক্ত আশেকানদের সরব পদচারণা, গান ও গ্রামীণ মেলায় জমজমাট হয়ে উঠতো আখড়াবাড়ি চত্বর।
এবার রমজানের পবিত্রতা রক্ষার্থে আলোচনার মধ্যেই এবারের স্মরণ্যেসব বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, “এখানে আগত যারা সাধু আছেন, তারা তাদের নিজস্ব রিতী আচার পালনে যা কিছু করণীয় আছে তার সবই তারা করবেন। আর আমাদের কাজটি আমরা করব। আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে যা কিছু করণীয় তার সর্বোচ্চটি করা হবে।”
তিনি জানান, রমজানের পবিত্রতা রক্ষার্থে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও লালন একাডেমির পক্ষ থেকে সোমবার (২ মার্চ) একদিনের লালন স্মরণোৎসব উদযাপন করা হচ্ছে।
লালন একাডেমি সূত্রে জানায়, দোল পূর্ণিমায় লালন স্মরণোৎসব উপলক্ষ্যে এ বছর পবিত্র রমজানের কারণে শুধুমাত্র সোমবার (২ মার্চ) মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত পূর্ণসেবার মধ্যদিয়ে ভক্তরা তাদের আনুষ্ঠানিক আচার অনুষ্ঠান শেষ করবেন। আগত বাউলরা একদিনের উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে।
যদিও ইতোপূর্বে প্রতিবছর এই আয়োজনকে ঘিরে তিন দিনব্যাপী লালন মঞ্চে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীন মেলা হতো সেটা এবার হচ্ছে না। শুধু আগত সাধুরা ভক্ত অনুসারীদের সঙ্গের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দোলপূর্ণিমায় লালন মাজারের আয়োজন।
সোমবার বিকেলে লালন স্মরণোৎসব উদযাপন উপলক্ষ্যে লালন একাডেমির অডিটোরিয়ামে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন বিশিষ্ট লালন চিন্তাবিদ ফরহাদ মাজহার।
সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই ভক্ত সাধুদের নিয়মেই চলবে তাদের সাধু সঙ্গ। রিতী অনুসারে, সন্ধ্যায় এবং রাতে বাউল ভক্ত ফকিরদের বাল্যসেবা প্রদান করা হবে এবং মঙ্গলবার দুপুরে পুণ্যসেবার মধ্যদিয়ে বাউলরা তাদের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন বলে নিশ্চিত করেন লালন মাজারের ভারপ্রাপ্ত খাদেম মশিউর রহমান রিপন।
তিনি জানান, এবারে তাদের অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- রাতে বাল্যসেবা, ভোরে রাখাল সেবা এবং দুপুরে পুণ্যসেবা। এর মাধ্যমেই সাধু-গুরুর ভক্তি ও ভাবের আদান প্রদান সারবেন।
মাজারে আগত ভক্ত শাহিদা খাতুন তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “প্রতিবছর তিনদিন ধরে যে ক্ষুদা নিবারন হতো, সেটা একদিনেই সারতে গেলে কিছু তো কমতি থাকেই। তবুও তিনদিনের পরিবর্তে এবার একদিনের অনুষ্ঠান হলেও সাধুদের নিয়ম নীতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তারা তাদের নিজস্ব নিয়মেই ক্ষুধা মেটাবেন।”
লালন মাজারে থাকা খোদা বক্স ফকির জানান, সোমবার সন্ধ্যায় আমরা গুরু কার্যে বসব। ভোরে সেহরীর পূর্বেই আমরা বাল্য সেবার মধ্য দিয়ে আমাদের কার্যক্রম শেষ করব। যদি কেউ দুপুরে থাকে, তাহলে তারা নিজেদের কাফেলায় নিজেদের উদ্যোগে পূণ্য সেবা নেবে। আমরা সকালেই সবাইকে বিদায় দিয়ে দেব।”
তিনি বলেন, “পৃথিবীর সকল ধর্মের মানুষের মাঝে সত্যের বানী প্রচারের মাধ্যমে আমরা আমাদের মানবতার ধর্ম প্রচার করি। এজন্য কানো ধর্মের মানুষ কষ্ট পাক এটা আমরা চাই না।”
আখড়া বাড়িতে আগত ভক্ত অনুসারীরা যাতে নিরাপদ ও নিরাপত্তা নিয়ে তাদের আচার অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন সেজন্য সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।