গাজীপুরের শ্রীপুরে অবহেলা আর দখলে প্রায় হারিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক চৌক্কার খালকে পুনরুজ্জীবিত করতে পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করে জনজীবন ও কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাব আনতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে শ্রীপুর উপজেলা এলাকায় খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, শিল্পকারখানা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাই সেগুলো বন্ধ বা ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা নেই। তবে শিল্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অবশ্যই পরিকল্পিত হতে হবে। এ জন্য নতুন প্রকল্প নেওয়ার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
মন্ত্রী আরো জানান, খালের দুই তীরে বসতবাড়ি ও শিল্প প্রতিষ্ঠান থাকায় পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পুনঃখননের মাধ্যমে খালটি সচল হলে স্থানীয় বাসিন্দারা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবেন এবং কৃষি ও পরিবেশ উভয় ক্ষেত্রে সুফল মিলবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর উন্নয়নমূলক নানা উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়েছে। জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশকে এগিয়ে নিতে এসব কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংসদ সদস্য ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন, বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকীসহ স্থানীয় নেতারা।
প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ চৌক্কার খালটি শ্রীপুর উপজেলার লবলং খালের একটি শাখা। দোখলা বাজার এলাকা থেকে শুরু হয়ে ছাপিলাপাড়া হয়ে ভাংনাহাটি গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত এই খাল একসময় কৃষি ও নৌ যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজে উপস্থিত থেকে খননকাজে অংশ নিয়েছিলেন।
বর্তমানে খালটি প্রায় ভরাট হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়ায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৬ হাজার টাকা ব্যয়ে পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
স্থানীয়দের আশা, পুনঃখননের মাধ্যমে চৌক্কার খাল আবারো প্রাণ ফিরে পাবে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি কৃষি ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।