সারা বাংলা

ছাত্রলীগ করায় ছেলেকে ‘ত্যাজ্য’ করলেন বাবা

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ করায় নিজ সন্তানকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছেন এক বাবা।

সোমবার (২ মার্চ) ঝিনাইদহ জেলা নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হলফনামার মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন মো. আবু জাফর নামে ওই বাবা।

হলফনামা সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হয়ে রাজনীতি করায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটী ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ব্যবসায়ী মো. আবু জাফর তার ছেলে মো. নাহিদ হাসান সবুজকে (২৪) ত্যাজ্য ঘোষণা করেন।

নাহিদ হাসান সবুজ ঝিনাইদহ সরকারি কেশবচন্দ্র (কেসি) কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন।

হলফনামায় মো. আবু জাফর উল্লেখ করেন, ছেলে দীর্ঘদিন ধরে তার অবাধ্য এবং অবান্তর জীবনযাপন করে আসছিলেন। তিনি বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন না এবং নিজের খেয়াল খুশি মতো আলাদা থাকেন।

হলফনামায় আবু জাফর অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও তার ছেলে এই সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে লিপ্ত আছেন। বিশেষ করে গত ২১ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করেন তার সন্তান সবুজ। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বাবা হিসেবে তিনি বিব্রত বোধ করেন।

হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, নাহিদ হাসান সবুজের কোনো প্রকার আয়-রোজগার, দায়-দেনা বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার বাবা বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। তার কোনো অপকর্মের দায়ভার পরিবার বহন করবে না। ভবিষ্যতে তার সঙ্গে পরিবারের সব প্রকার রক্ত সম্পর্কীয় ও আইনি বিচ্ছেদ বজায় থাকবে।

ছেলেকে ত্যাজ্য ঘোষণাকারী মো. আবু জাফর বলেন, “দেশের আইন ও নীতিমালার পরিপন্থি কোনো কাজ আমার সন্তান করুক তা আমি চাই না। বারবার সতর্ক করার পরও সে নিজেকে সংশোধন করেনি। তাই বাধ্য হয়ে আমি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” ঝিনাইদহ জেলা জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. সাদাতুর রহমান হাদি’র মাধ্যমে এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন আবু জাফর।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ হাসান সবুজের বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।