নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ১০৯ জনকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) আবেদন করা আলতাফ হোসেন নিজেই মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
আলতাফ হোসেন সোনারগাঁ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ১০৩তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সারা দেশের ৭৮ জনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করে গত সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করে। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে সোনারগাঁ উপজেলায় রয়েছেন ৫১ জন। আলতাফ হোসেনের নাম বাতিলের জারিকৃত প্রজ্ঞাপন তালিকায় ৫৪ নম্বরে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকার পতনের পর আলতাফ হোসেন নিজেকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন। তিনি জামুকায় ১০৯ জনকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা উল্লেখ করে তাদের তালিকা থেকে বাতিলের জন্য অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জামুকার প্রতিনিধি দল ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর সোনারগাঁ উপজেলায় পরিদর্শনে এসে গণশুনানি করেন। গণশুনানি শেষে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা যাচাই-বাছাই করে আলতাফ হোসেনসহ ৫১ জনকে বাতিলের সুপারিশ করেন।
জামুকার মহাপরিচালক শাহিনা খাতুনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে অংশ নেন- জামুকার সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর সৈয়দ মুহিবুর রহমান, হাবিবুল্লাহ আলম, অবসরপ্রাপ্ত মেজর ফজলুর রহমান, সাদেক আহমেদ খান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর আব্দুস সালাম, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারজানা রহমান।
গণশুনানি শেষে ওইদিন বিকেলে জামুকা প্রতিনিধি দল সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিং করেন।
এ বিষয়ে আলতাফ হোসেন জানান, শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে আবেদন করার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বাতিল করা হয়েছে। তিনি ভারতে ট্রেনিংপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি কমান্ডার ছিলেন। সব ধরনের প্রমাণপত্র দাখিল করে বিবেচনার জন্য জামুকায় আবেদন করবেন এমনটি জানিয়েছেন তিনি।