হঠাৎ করেই গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। পরিদর্শনে দেখতে পান চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি, ছুটির অনুমোদনের অসঙ্গতি ও হাসপাতালের সেবাব্যবস্থার নানা ঘাটতি।
শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতোই কার্যক্রম চলছিল কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এ সময় হঠাৎ করেই পুলিশ প্রটোকলসহ একটি সাদা গাড়ি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। গাড়ি থেকে নেমেই হাসপাতালে প্রবেশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি কর্তব্যরতদের কাছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অফিস কোথায় জানতে চান। পরে ওই কক্ষে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশিদকে অনুপস্থিত দেখতে পান। এ বিষয়ে উপস্থিতদের কাছে জানতে চাইলে কেউ স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। পরে ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যানবিদ পরিচয়ে মোহাম্মদ কাজী নাজমুল হক জানান, ওই কর্মকর্তা ছুটিতে রয়েছেন।
এ সময় মন্ত্রী ছুটির আবেদনপত্র দেখতে চাইলে স্ক্যান করা একটি কপি দেখানো হয়। তবে তাতে জেলা সিভিল সার্জনের অনুমোদন ছিল না। এরপর মন্ত্রী চিকিৎসকদের হাজিরা খাতা নিয়ে কনফারেন্স রুমে বসেন এবং উপস্থিতি যাচাই করেন। সেখানে চারজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়া যায়, যাদের কারও ছুটির আবেদনও পাওয়া যায়নি।
এরই মধ্যে মন্ত্রীর আকস্মিক আগমনের খবর পেয়ে কয়েকজন চিকিৎসক সাড়ে ১০টার দিকে তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে উপস্থিত হন। দেরিতে আসার কারণ জানতে চাইলে তারা বিভিন্ন অজুহাত তুলে ধরেন। পরে তাদের কয়েকজন মন্ত্রীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
একপর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশিদও হাসপাতালে এসে পৌঁছান। মন্ত্রী তার কাছে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি অসুস্থ এবং ছুটিতে রয়েছেন। তবে ছুটির অনুমোদিত আবেদনপত্র দেখতে চাইলে তিনি কেবল আবেদনের একটি কপি দেখাতে পারেন, যাতে সিভিল সার্জনের অনুমোদন ছিল না। এছাড়া তিনি অসুস্থতার কথা বললেও আবেদনে উল্লেখ ছিল পারিবারিক সমস্যার কারণে ছুটিতে থাকার বিষয়টি। পরে তিনি মন্ত্রীর কাছে বিশেষভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসা ও সেবার খোঁজখবর নেন। এ সময় ওয়ার্ডগুলোর ওয়াশরুমে কোনো হ্যান্ডওয়াশ বা সাবান না পেয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বাজেট থাকা সত্ত্বেও কেন এসব ব্যবস্থা রাখা হয়নি-এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা নিজেদের ভুল স্বীকার করেন।
এছাড়া, বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন মন্ত্রী। রোগীরা চিকিৎসা সেবার নানা সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরেন। মন্ত্রী সেসব অভিযোগ নোট করে নেন। একইসঙ্গে হাসপাতালের কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবিও শোনেন এবং তা লিখে রাখেন।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে হাসপাতালের ফার্মেসিও ঘুরে দেখেন তিনি। সবশেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং হাসপাতালের সমস্যা ও অভিযোগগুলো নোট করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “সারা দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আগাম জানিয়ে পরিদর্শন করা হবে না। হঠাৎ করেই সফর করা হবে। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরো বলেন, “যারা হাসপাতালে চাকরি করবেন তাদের কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না। সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে। ঢাকায় বসবাস করে মফস্বলের হাসপাতালে চাকরি করার সুযোগ আর থাকবে না। প্রয়োজনে কর্মস্থলের কাছাকাছি থেকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।”