সারা বাংলা

ফ্যামিলি কার্ড একটি শক্তি ও ক্ষমতা: মির্জা ফখরুল

প্রত্যেকটি পরিবারের প্রধান নারীদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, “ফ্যামিলি কার্ড একটি শক্তি ও ক্ষমতা। এই কার্ডের মাধ্যমে নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দাঁড়াতে পারবে এবং পরিবার ও সমাজে তাদের গুরুত্ব বাড়বে।” 

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের রহিমানপুর সম্মিলিত ঈদগাঁ আলীম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, এটি আমার শেষ নির্বাচন। আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন। আমি আপনাদের এই ঋণ কখনো শোধ করতে পারব না। উন্নয়ন ও কাজের মাধ্যমে সেই ঋণ পরিশোধ করার চেষ্টা করব।”

তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব পরিবার এই কার্ডের আওতায় আসবে। 

মন্ত্রী বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কারণ, তিনি এই কর্মসূচির জন্য আমাদের এই অঞ্চলকে বেছে নিয়েছেন।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “গত ১৫ বছরে দেশে আইনের শাসন ছিল না এবং নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তখন টাকা ছাড়া অনেক সেবা পাওয়া যেত না। এবার কোনো টাকা ছাড়াই মানুষ কার্ড পাচ্ছেন। তাই হতাশ হওয়ার কিছু নেই- পর্যায়ক্রমে সবাইকে কার্ড দেওয়া হবে।”

তিনি জানান, সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র ২২ দিনের মধ্যেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। আগামী ১৬ তারিখ থেকে খাল-খনন কার্যক্রম শুরু হবে, যাতে বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে খরার সময় কৃষিকাজে ব্যবহার করা যায়।

মির্জা ফখরুল বলেন, “প্রত্যেক কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। তারা ন্যায্যমূল্যে সার, সেচ ও বীজ কিনতে পারবেন।”

ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, ২০২৭ সাল থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ শুরু হবে। তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং মাদক থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে সারা দেশে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শর্তসাপেক্ষে এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৫৯০ জন নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়।

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সামাদ, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিএনপির নেতারা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.খাইরুল ইসলাম।