সারা বাংলা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ, যানজটে ভোগান্তি 

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে ১০টায় উপজেলার হাড়িখোলা মাজার এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করে শ্রমিকরা। 

প্রায় দুই ঘণ্টার অবরোধে মহাসড়কটির উভয় পাশে অন্তত ১৫ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রী, চালক ও সংশ্লিষ্ট লোকজন ভোগান্তিতে পড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ৮টায় ডেনিম প্রসেসিং প্ল্যান্ট লিমিটেড পোশাক কারখানার কয়েক শত শ্রমিক উপজেলার হাড়িখোলা মাজার এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন শুরু করে। 

এ অবরোধের কারণে ঢাকাগামী ও চট্টগ্রামমুখী সব যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উভয়মুখী লেনে শুরু হয় তীব্র যানজট। একপর্যায়ে উপজেলার কুটম্বপুর থেকে নুড়িতলা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় যানজট ছড়িয়ে যায়।

তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল ইসলাম, চান্দিনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান, ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি রুহুল আমিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। দ্রুত বকেয়া বেতন-ভাতা ও বোনাস দেওয়ার আশ্বাস পেয়ে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে শ্রমিকেরা মহাসড়ক থেকে সরে যায়। 

এ বিষয়ে কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী বাসের চালক সুমন বলেন, প্রতিবছরই কয়েকবার ওই প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে। আজও একই ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দাবি আদায় করা হচ্ছে।

এর আগেও বিভিন্ন সময় ওই পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করেছিল। গত বছরের ঈদের আগেও একই চিত্র দেখা যায়।

কারখানার একাধিক শ্রমিক জানান, দুই মাস ধরে তাঁদের বেতন দিচ্ছে না মালিকপক্ষ। কারো ৩০ হাজার, কারো ৪০ হাজার টাকার বেশি বকেয়া। এতে শ্রমিকেরা দুর্ভোগে পড়েছেন। এ ছাড়া সামনে ঈদ। তাই আজ বাধ্য হয়ে তাঁরা মহাসড়কে নেমেছে।

এ বিষয়ে ডেনিম প্রসেসিং প্ল্যান্ট লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘‘আমরা শ্রমিকদের বলেছি, বৃহস্পতিবারের মধ্যে জানুয়ারি মাসের বেতন পাবেন তাঁরা। আর ১৬ মার্চের মধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ও ঈদের বোনাস পাবেন। একটি মহল ইন্ধন দিয়ে শ্রমিকদের ব্যবহার করে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।’’ 

শ্রমিকদের অবরোধে আটকে থাকা স্টার লাইন পরিবহনের বাসচালক স্বপন চৌধুরী বলেন, ‘‘প্রায় আড়াই ঘণ্টা যানজটে আটকে ছিলাম। ১১টার দিকে শ্রমিকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলেও এই যানজটের দুর্ভোগ দীর্ঘক্ষণ থাকবে।

এ বিষয়ে চাঁদপুরেরে কচুয়া উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, তিনি চিকিৎসক দেখানোর জন্য বাড়ি থেকে কুমিল্লায় রওনা দিয়েছেন। পথে যানজটে আটকা পড়ে যথাসময়ে চিকিৎসক দেখানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মো. রুহুল আমিন বলেন, শ্রমিকদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তাঁরা শিগগিরই বেতন-বোনাস পাবেন। অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই দিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক, তবে ধীরগতি রয়েছে।