সারা বাংলা

দল দেখে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়নি: হুইপ বকুল 

জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি বলেছেন, অতীতের মত মুখ ও দল দেখে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়নি। সফটওয়্যারের মাধ্যমে নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এমনকি এতে কোন ধরনের দলীয় প্রভাব বিস্তার করে বিশেষ কাউকে সুবিধা দেওয়া হয়নি। মূলত অতি দরিদ্র, হতদরিদ্র এবং ঝুঁকিপূর্ণ- এ তিনটি ক্যাটাগরিকে প্রাধান্য দিয়ে নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) খুলনা মহানগরীর ১০নং ওয়ার্ড এলাকার হাজী শরীয়তুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এখন পাইলট প্রকল্পে অল্প সংখ্যক মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হলেও আগামী জুন মাসে নতুন বাজেটের পর পরিপূর্ণভাবে যোগ্য পরিবারই এ কার্ড পাবেন বলে জানান হুইপ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোক্তার আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি রেজাউল হক, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, খুলনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক অনিন্দিতা রায়।

অনুষ্ঠানে  হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, বিএনপি যেটা বলে সেটা করে দেখায়। সরকার গঠনের মাত্র ২৩ দিনের ব্যবধানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ তার বাস্তব প্রমাণ।

খুলনার মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের ১০নং ওয়ার্ডকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পাইলট প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করায় ১০নং ওয়ার্ডবাসী গর্বিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রকিবুল ইসলাম বকুল আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনেকগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড অন্যতম। যদিও তার এ ঘোষণার পর অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে ট্রল করেছেন। কিন্তু সেটি মিথ্যা প্রমাণ করে এখন সেটি বাস্তবায়ন হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা কার্ড পাচ্ছেন, তারা সবাই বিএনপি করে না। জামায়াত, আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলের; এমনকি কোন দল করে না- এমন পরিবারও আছে। দলমত নির্বিশেষে কার্ড দেওয়া হচ্ছে। তিনি সবাইকে বিএনপির সঙ্গে থেকে সহযোগিতা করে দেশের উন্নয়নের জন্য সরকারের হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। 

হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী খুলনার বন্ধ মিল কলকারখানা চালু করে বেকারদের কর্মসংস্থানের পুনঃপ্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি মাদক, দখলবাজ, চাঁদাবাজ এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য তিনি আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। এমনকি নিজ দলের নেতাকর্মী হলেও সবার আগে তাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্ত স্থাপনেরও কথা বলেন রকিবুল ইসলাম বকুল। 

কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চাইলে রেহাই দেওয়া হবে না বলেও দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন তিনি খুলনাকে উন্নত এবং শান্তিপূর্ণ হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা চান।

অনুষ্ঠানে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। এটিই বিএনপির প্রথম সফলতা। যারা সমালোচনা করেছেন তাদের মুখে ছাই পড়েছে। বিএনপি শুধু কথা দেয় না, কথা রাখে। এ কার্ড নারীদের স্বাবলম্বী করবে। তিনি বলেন, এরপর কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড এবং ইমাম-খতিব ও মুয়াজ্জিনদের ভাতা দেওয়া হবে। বিএনপিরে অগ্রযাত্রাকে স্মরণীয় এবং এগিয়ে নিতে সকল মিথ্যা প্রচারণা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার আহবাদ জানান তিনি। 

অনুষ্ঠানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক অনিন্দিতা রায় জানান, খুলনা মহানগরীর ১০নং ওয়ার্ডে মোট ৮ হাজার ৭টি খানা জরিপ করা হয়। প্রতিটি ঘরে প্রবেশ করে ফার্নিচার ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এবং ৪৯ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ৫ হাজার ২৭৫টি পরিবারের তথ্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এরমধ্যে ৪ হাজার ১৫৮ জন নারী ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছেন। আজ উদ্বোধনী দিনে ১ হাজার নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদের হাতে পর্যায়ক্রমে পৌঁছে দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সচিব মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। 

অনুষ্ঠানে সাতজন নারীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়। অতিথিদের কাছ থেকে কার্ড হাতে পাওয়া নারীরা হচ্ছেন ইসমত আরা, আসিয়া আক্তার, জাঁকিয়া সুলতানা, ফারজানা বৃষ্টি, মরিয়ম বেগম, তানজিলা খাতুন ও সানজিদা খাতুন।