রাজশাহীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ইফতার মাহফিল করছেন— এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে। ইফতারের আগে তারা মুখে মাস্ক পরে শপথ নিয়েছেন। ইফতার মাহফিল রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ ও মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানার ব্যবহার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে ‘জননেতা ডাবলু সরকার’ নামের একটি পেজ থেকে এই ভিডিওটি ছাড়া হয়। এরপর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার হত্যা মামলায় এখন জেলে আছে। তার নামে এই পেজ চালানো হয়। তবে এই ইফতার কবে অনুষ্ঠিত হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওতে দেখা গেছে, ইফতারের আগে নেতাকর্মীরা হাত তুলে শপথ নিচ্ছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে সসম্মানে ফিরিয়ে আনার শপথ নেন তারা। তাদের সসম্মানে দেশে না ফেরানো পর্যন্ত আন্দোলন সংগ্রাম চালানোর কথা বলা হয়।
এছাড়া কারাবন্দী রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারকে মুক্ত না করা পর্যন্ত রাজপথে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ারও শপথ নেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ইফতার পার্টির শপথ গ্রহণের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করতে থাকেন। এরপর এ ব্যাপারে নড়েচড়ে বসেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া শুরু করেছে। তবে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা জানিয়েছে, স্থানটি রাজশাহীতে না। ঢাকার কোনো একটি যায়গায় হবে।
রাজশাহী মহানগর যুবদলের এক নেতা নাম প্রকাশ করার শর্তে বলেন, ‘‘ভিডিওটি আমরা ভালো করে দেখেছি। এই ভিডিওতে কয়েকজনকে শনাক্তও করা হয়েছে। যে শপথ পড়াচ্ছিলেন, তিনি মহানগর সৈনিক লীগের নেতা আবেদ হোসেন। ডাবলু সরকারের ঘনিষ্ঠ তিনি। জুলাই আন্দোলনে হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।’’
তিনি আরও জানান, সেখানে উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ নেতা নাহিদ আখতার নাহান, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক ও বোয়ালিয়া থানা পশ্চিম আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিকুর রহমান কালুর ছেলে আশিকুর রহমান তুহিন ও যুবলীগ নেতা রিগান। এরা সবাই জুলাই আন্দোলনে সরাসরি হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ইফতারে ২০ থেকে ৩০ জনের মতো উপস্থিত ছিলেন। তাদের সবার বিরুদ্ধে মামলা আছে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ‘‘এরকম একটি ভিডিও আমরা দেখেছি। তবে ঘটনাটি কোথায় তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইফতার পার্টি করার আইনগত সুযোগ নেই। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।’’