আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে। তবে মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে অব্যবস্থাপনা, সড়ক সংস্কার কাজ, ফুটপাত দখল ও এলোমেলো পার্কিংয়ের কারণে যানজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে ঈদযাত্রায় ঘরে ফেরা মানুষের জন্য এই অংশটি ‘গলার কাঁটা’ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মহাসড়কের কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা, দেবিদ্বারসহ কয়েকটি স্থানে সংস্কার কাজ চলছে। আবার সদর উপজেলার আমতলী ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে।
এছাড়া, দাউদকান্দির গৌরীপুর ও ইলিয়টগঞ্জ, চান্দিনার মাধাইয়া ও কুটুম্বপুর, বুড়িচংয়ের নিমসার, সদর দক্ষিণের পদুয়ার বাজার ও সুয়াগাজী এবং চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার এলাকায় প্রায়ই মহাসড়কের ওপর গাড়ি পার্কিং ও ফুটপাত দখলের কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। অনেক স্থানে মহাসড়কের ওপরই বাজার বসানো হয়, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে।
বিশেষ করে পদুয়ার বাজার এলাকায় মহাসড়কের ওপর দিয়ে কুমিল্লা–নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়ক অতিক্রম করায় এখানে যানবাহনের চাপ বেশি। ফুটওভারব্রিজের নিচে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা এবং সড়কে এলোমেলো পার্কিংয়ের কারণে প্রায়ই দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
যাত্রীদের অভিযোগ, ফুটপাত দখল ও সড়কের ওপর বাজার বসার কারণে প্রায়ই যানজট তৈরি হয়। ঈদে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকলে ঘরমুখো মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে।
এদিকে, কুমিল্লা অংশে মহাসড়কের নিরাপত্তা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের প্রায় ৩০০ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। তারা চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি প্রতিরোধের পাশাপাশি যানজট নিরসনে কাজ করছেন।
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান বলেন, “মহাসড়কের সমস্যাগুলো সম্পর্কে পুলিশ অবগত। ফুটপাতের দখল উচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে ঈদযাত্রা স্বাভাবিক রাখা যায়।”
জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, “মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”