সারা বাংলা

নড়াইলে ডিজেল মিলছে না, সেচ নিয়ে কৃষক বিপাকে

‘‘এই যে দেখেন, ড্রাম খালি, বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। আমার নিজের ধানও যাচ্ছে (নষ্ট হচ্ছে), অন্যদেরও যাচ্ছে। গ্রাম এলাকায় যে বাজারে দোকান থাকে, সবই বন্ধ। নড়াইল শহরে আইসেও কোথাও থেকে কোনো তেলের ব্যবস্থা করতে পারিনি। বাস গাড়িআলারা তেল পাচ্ছে, আমরা কৃষকেরা তেল পাচ্ছি না। আমরা তো আর তেল নিয়ে নষ্ট করি না।’’ 

রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুরের দিকে নড়াইল সদর উপজেলার মাছিমদিয়া এলাকার সরদার ফিলিং স্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে হতাশা ও আক্ষেপ নিয়ে এভাবে কথাগুলো বলেন পলইডাঙ্গা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম। 

বোরো ধানের জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য নিজ এলাকার বাজারে ডিজেল না পেয়ে বাইসাইকেল চালিয়ে শহরে এসেছেন সকালে। দুপুর পর্যন্ত এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরছেন। কোথাও এক লিটার তেলও পাননি। হতাশ হয়ে শূন্য ড্রাম নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। ধানের সেচ নিয়ে তার দুশ্চিন্তা।

দুপুর পর্যন্ত নড়াইল জেলা শহর ও আশপাশে থাকা পাঁচটি তেলের পাম্প ঘুরে দেখা যায়, একটি পাম্পে শুধু পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে রেশনিং পদ্ধতিতে স্বল্প পরিমাণে তেল নিচ্ছেন মোটরসাইকেল চালকরা। বাকি চারটি পাম্পে রশিতে লাল কাপড় বাঁধা হয়েছে, যা তেল সংকটের সংকেত দিচ্ছে। এসব পাম্পে ডিজেল, পেট্রল বা অকটেন কোনোটিই নেই। পাম্পগুলোয় সেচের জন্য তেল নিতে আসা কৃষক ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা এসে ফিরে যাচ্ছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও আবার খুচরা দোকানে বাড়তি দাম দিলে তেল পাওয়া যাচ্ছে।

বুলবুল আনিস নামে এক কৃষক বলেন, ‘‘এখন বোরোর ভরা মৌসুম চলছে। আমি ২০ কিলোমিটার দূর থেকে সঙ্গে করে ড্রাম নিয়ে আইছি ডিজেল নিতে। তিনটে পাম্পে গেছি, তিনটেই বন্ধ, ডিজেল নেই। কীভাবে কৃষকরা ধানে সেচ দিবে?’’

পিকআপ চালক শিমুল কাজী বলেন, ‘‘পাম্পে গেলে তেল পাওয়া যাচ্ছে না, বাজারের দোকানে গেলে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক জায়গায় বেশি টাকা দিলে তেল পাওয়া যাচ্ছে। আমি নিজেই বেশি টাকা দিয়ে কিনেছি। টাকা বাড়ায় দিলে এই তেল কোথা থেকে আসতেছে?’’

সরদার ফিলিং স্টেশনের কর্মী আরাফাত আলী বলেন, ‘‘খুলনা ডিপো থেকে তেল আসেনি। তেল ফুরিয়ে গেছে এক ঘণ্টার মতো হলো। আমরা পাম্প বন্ধ করে দিয়েছি। বেশি টাকা দিলে তেল পাওয়ার কোনো ঘটনা নেই। এটা বাইরের দোকানগুলোতে হতে পারে। আর আমাদের এখানে বড় কর্মকর্তারা এসে দেখে গেছে, কোনো মজুত পায়নি।’’ 

ক্রেতাদের বিভিন্ন অভিযোগ ও সে বিষয়ে প্রশাসনের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম বলেন, ‘‘ডিপো থেকে তেল আসেনি। দু-এক দিনের মধ্যে কৃষকদের তেলের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’’