বরিশালের বাবুগঞ্জে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীর শরীরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়েটি মারা যায়।
রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দিনমজুর নজরুল হাওলাদারের মেয়ে রাইসা আক্তারকে দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার জালাল শিকদারের ছেলে সিফাত শিকদার বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। রবিবার দুপুর ১২টার দিকে রাইসা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় সিফাত তার পথরোধ করে। কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে সিফাত আগুন ধরিয়ে দেয় রাইসার শরীরে।
ঘটনার সময় পাশের বাড়ির বাসিন্দা তসলিম বিষয়টি দেখতে পেয়ে চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় রাইসাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকরা অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাইসাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানোর পরামর্শ দেন। হাসপাতালে ভর্তির কিছু সময় পর রাত ১০টার দিকে রাইসা মারা যায়।
এ বিষয়ে জানতে রাইসার বাবা নজরুল ইসলামের মোবাইলে যোগাযোগ করা হয়। মেয়ে হারানোর শোকে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্ত সিফাত শিকদারের বাবা জালাল শিকদার জানান, ঘটনার সময় তার ছেলে নদীর পাড়ে গোসল করতে গিয়েছিল। পরে তিনি শুনেছেন, রাইসা আগুনে দগ্ধ হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে তার ছেলে জড়িত নয় বলেও তিনি দাবি করেন।
বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ এহতেশামুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”