পটুয়াখালীতে সোমবার মধ্যরাতের ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সহস্রাধিক অধা-পাকা বাড়ি। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বেলা ১১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন ছিলেন কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলার মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কলাপাড়ায়। উপজেলার ধানখালী, টিয়াখালী, ডালবুগঞ্জ, বালিয়াতলী ও লতাচাপলী ইউনিয়নের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। ঠিক কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেটি এখনো নিরুপন করতে পারেনি জেলা প্রশাসন। হতদরিদ্র অনেক মানুষ বেকায়দায় পড়েছেন। তারা ঘর তৈরিতে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার বেলা ১১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না বলেও জানান তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামত করছেন এক বাসিন্দা
কলাপাড়ার টিয়াখালী ইউনিয়নের নাচনাপাড়া এলাকার মরিয়ম বেগম বলেন, “আমাদের এলাকার অনেক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমার ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত সেটি ঠিক করতে পারিনি।”
ধানখালী ইউনিয়নের জুলহাস বলেন, “আমাদের এলাকার জলিল হাওলাদারের ঘরসহ কয়েকটি ঘর ঝড়ে পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। আমার ঘরও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি সহায়তা পেলে আমরা অনেকটা উপকৃত হব।”
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের লেম্বুর বন এলাকার বাসিন্দা ফারুক জানান, এখানের ১৪ টি দোকানঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঈদের আগে এমন ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের অনেক কষ্ট হবে। সরকারি সহায়তা পেলে তারা অনেক উপকৃত হবেন।
কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোকছেদুল আলম বলেন, “ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের কাজ চলছে। অফিস খুললে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ঢেউটিন দেওয়া হবে। এছাড়া, যেসব ঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে সেসব ঘরের মালিকদের সহায়তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।”