বরাবরের মতো এবারও হতদরিদ্র ও দুস্থ মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে গাইবান্ধায় ‘এক টাকার বাজার’ কর্মসূচি আয়োজন করেছে ‘আমাদের গাইবান্ধা’ নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
শখ থাকলেও সাধ্যে কুলায় না নিম্নআয়ের এ সব মানুষের। তার উপর দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত মূল্য বৃদ্ধিতে নাজেহাল অবস্থা নিম্নবিত্তের এই পরিবারগুলোর। এ অবস্থায় এক টাকার বিনিময়ে ঈদের সকল রন্ধনসামগ্রী বিতরণ করে সংগঠনটি। ২৫০ পরিবারকে দেওয়া হয়, চাল, ডাল, চিনি, সেমাই, দুধ, মুরি, পেঁয়াজ, লালশাক, মুরগিসহ ১৮ প্রকার পণ্য।
বুধবার (১৮ মার্চ) বিকালে গাইবান্ধার স্বাধীনতা রজতজয়ন্তী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে ‘এক টাকার বাজার’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন। এ সময় ‘আমাদের গাইবান্ধা’ সংগঠনের সভাপতি সায়হাম রহমান, সাধারণ সম্পাদক মুসাব্বির রহমান রিদিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এক টাকার বাজার করতে আসা সদর উপজেলার শাহাপাড়া ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামের বৃদ্ধা মর্জিনা বেগম বলেন, ‘‘বাজারে জিনিসপাতির যে দাম, ভালো কিছু কেনা যায় না। প্রতিদিন যেটা কামাই করি, সেটা এনজিওর কিস্তি আর ডাল-ভাত খাতেই শ্যাষ। এই কষ্টের সময়ে এক টাকায় এতগুল্যে বাজার পাওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার।’’
সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের ফারাজিপাড়া থেকে এক টাকার বাজারে এসেছেন মর্জিনা বেগম। তিনি বলেন, ‘‘ঈদের আগে এক টাকার এতগুলো বাজার পেয়ে খুব খুশি। আল্লাহ ওমার (আয়োজকদের) ভালো করুক।’’
গত বছরের মতো এবারও অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করতেই এই আয়োজন বলে জানিয়েছেন ‘আমাদের গাইবান্ধার’ সভাপতি সায়হাম রহমান। তিনি বলেন, ‘‘সমাজে পিছিয়ে পরা অসহায় মানুষের মুখে একটু হাসি ফোটানোই আমাদের লক্ষ্য। ঈদ উপলক্ষে আমাদের এই বিশেষ আয়োজন। এর আগের কয়েকটি ঈদুল ফিতরেও আমরা এমন আয়োজন করেছিলাম। তখন থেকে বেশ সাড়া পাচ্ছি। বাজারে আসা সুবিধাবঞ্চিতদের খুঁজে খুঁজে তাদের টোকেন দেওয়া হয়।’’
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুসাব্বির রহমান রিদিম জানান, ২০১৪ সালে মাত্র ২০ জন শিক্ষার্থীর মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম শুরু হয়। করোনা পরিস্থিতিতে মানুষকে সচেতন করা, লাশ দাফন কাজ করা, অক্সিজেন সরবরাহ, কয়েক দফা ত্রাণ বিতরণ, অসহায়দের রক্ত যোগান, ধর্ষণ প্রতিরোধসহ সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে সচেতনতা সৃষ্টি, তরুণ সমাজের মেধা বিকাশে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে এই সংগঠন।
এই ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।