ধুধু বালুকাবেলায় বাতাসে দোল খাচ্ছে গুল্মলতা ও তার রঙিন ফুল। এর পাশেই লাল কাঁকড়ার অবাধ ছুটোছুটি। রয়েছে অতিথি পাখির ওড়াউড়ি। এছাড়াও রয়েছে বিশাল এলাকা জুড়ে সাদা ঝিনুকের আস্তরণ।
এমন মন জুড়ানো দৃশ্য পটুয়াখালীর সাগরকন্যা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের চর গঙ্গামতি এলাকার। শুধু চর গঙ্গামতিই নয়, দীর্ঘ ২২ কিলোমিটার সৈকতের ম্যানগ্রোভ খ্যাত বনাঞ্চলে এখন নতুন সজীবতার সমারোহ। ফুলে ফুলে সেজেছে গাছ গাছালি। মোটকথা রমজানের শুরু থেকে কুয়াকাটা সৈকত পর্যটক শূন্য থাকায় প্রকৃতি সেজেছে অপরূপ সাজে।
মনজুড়ানো এসব সৌন্দর্য কেবল এবার ঈদে কুয়াকাটায় আসা পর্যটকরাই উপভোগ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাদের আশা, এসব মন ভোলানো দৃশ্য উপভোগ, দেশের পরিস্থিত স্বাভাবিক থাকা এবং নতুন সরকার গঠনের ফলে ঈদের ৭ দিনে ৪ লাখ পর্যটকের আগমন ঘটবে। ইতিমধ্যে বুকিং হয়েছে ৬০ ভাগ হোটেল-মোটেলের কক্ষ।
পর্যটকদের বরণে নতুন সাজে সাজানো হচ্ছে পুরো পর্যটন এলাকা। রং তুলির আঁচড়ে নতুন রূপ দেওয়ার পাশাপাশি ধুয়ে-মুছে পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে হোটেল-মোটেল থেকে শুরু করে প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সৈকতের ছাতা-বেঞ্চিতে আনা হচ্ছে নতুনত্ব। মোটকথা পর্যটন সংশ্লিষ্ট ১৬টি পেশার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা পার করছেন ব্যস্ত সময়।
কুয়াকাটা সৈকতের ফটোগ্রাফার হৃদয় বলেন, দীর্ঘ এক মাস পর্যটক শূন্য ছিল কুয়াকাটা। আমাদের আয় ইনকাম শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। অনেকটা লোকসানে পড়েছি। আমরা আশা করছি ঈদের সময় টানা এক সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ লাখ পর্যটকের আগমন ঘটবে। ফলে পেছনের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারব।
ট্যুরিস্ট বোড মালিক সোলায়মান মৃধা বলেন, দীর্ঘদিন দীর্ঘ ২২ কিলোমিটার সৈকত অনেকটা জনমানব শূন্য থাকায় প্রকৃতির সেজেছে তার আপন রূপে। অনেক স্থানে গুল্মুলতা ও তার ফুল ফুটেছে। লাল কাঁকড়া ও অতিথি পাখির বিচরণ বেড়েছে। ঈদের ছুটিতে আগতো পর্যটকরা এসব দৃশ্য উপভোগ করতে পারবে। আমরা আশা করছি এবছর কুয়াকাটায় ৪ লাখ থেকে সাড়ে ৪ লাখ পর্যটকের আগমন ঘটতে পারে।
পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদানের আগাম প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিয়নের পুলিশ পরিদর্শক তাপস দাস বলেন, এবার ঈদে কুয়াকাটায় ব্যাপক পর্যটকের আগমন ঘটবে। তাদের নিরাপত্তার জন্য আমরা আগাম প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রতিটি পর্যটন স্পটে টুরিস্ট পুলিশের সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি টহল অব্যাহত থাকবে। এছাড়া থানা পুলিশ, নৌ-পুলিশ এবং সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে কাজ করবেন।