সারা বাংলা

পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণে নির্বিঘ্ন, স্বস্তির ঈদযাত্রা

দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার মূল প্রবেশপথ হিসেবে খ্যাত পদ্মা সেতু হয়ে দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনা ছাড়াই নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে ঘরমুখী মানুষ।

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতুর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের টোলপ্লাজায় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি যানবাহনের চাপ থাকলেও কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থাপনায় খুব দ্রুত সময়ে টোল প্রদান করে গন্তব্যে ছুটছে যানবাহনগুলো।

এক্সপ্রেসওয়েতে দূরপাল্লার গণপরিবহনে পাশাপাশি ব্যক্তিগত ছোট যানবাহনেরও আধিক্য রয়েছে। দুই চাকার ব্যক্তিগত বাহন মোটরসাইকেলেও অনেকে পারি দিচ্ছেন পদ্মা সেতু। দক্ষিণের নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে কাজ অব্যাহত রেখেছ সেতু কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন।

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের হাসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম মাহামুদুল হক জানান, ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে দুটি মোবাইল টিম ও চারটি পেট্রোল টিমসহ মোট ছয়টি দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। পুলিশের নিয়মিত টহল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ জোর দেওয়ায় এক্সপ্রেসওয়ের পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। 

যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি জানান। 

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) আলতাফ হোসেন শেখ জানান, এবারের ঈদযাত্রায় পদ্মা সেতুতে টোল প্লাজার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ৩ সেকেন্ডে ১০টি গাড়ি টোল প্রদান করে সেতু পার হচ্ছে। 

মোটরসাইকেলের জন্য ৩টি আলাদা লেনসহ মোট ১০টি লেনে টোল আদায় করা হচ্ছে। যানজট নিরসনে এবার পদ্মা সেতু উত্তর থানার সামনে একটি বিশেষ ‘বাস বে’ নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে একসাথে ১০-১৫টি বাস দাঁড়াতে পারছে, যার ফলে টোল প্লাজার প্রবেশমুখে যানবাহনের বিশৃঙ্খলা ও দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে না।

মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম বলেন, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতুর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের টোলপ্লাজায় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ থাকলেও কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থাপনায় খুব দ্রুত সময়ে টোল প্রদান করে গন্তব্যে ছুটছে যানবাহনগুলো।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুর দুই প্রান্ত হয়ে যান পারাপার হয়েছে ৪১ হাজার ৮৮৫টি। এতে টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫২৫০ টাকা।