সারা বাংলা

নানা আয়োজনে কারাগারের চার দেয়ালে ঈদের আনন্দ

কারাগারের জীবন মানে কঠোর নিয়ম, নির্দিষ্ট রুটিন আর চার দেয়ালের ভেতরে সীমাবদ্ধ এক বাস্তবতা। তবে এই কঠিন পরিবেশেও পবিত্র ঈদুল ফিতর এসে ছুঁয়ে যায় আনন্দের আবহ। বন্দিত্বের মাঝেও উৎসবের রঙ ছড়িয়ে দিতে গাজীপুরের কারাগারে নেওয়া হয়েছে মানবিক ও ব্যতিক্রম উদ্যোগ।

ঈদের সকাল শুরু হয় একটু অন্যরকম আয়োজনে। পায়েস, সেমাই আর মুড়ির মিষ্টি স্বাদ বন্দিদের দিনটিকে করে তোলে আলাদা। দুপুরে পরিবেশন করা হয় পোলাও, গরুর মাংস, মুরগির রোস্ট, সালাদ ও মিষ্টান্ন, যা সাধারণ দিনের খাবারের তুলনায় অনেক বেশি সমৃদ্ধ। রাতের মেনুতেও থাকে বিশেষ আয়োজন; ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ ভাজা।

কারাগারের ভেতরে আয়োজন করা হয় ঈদের জামাত। নামাজ শেষে বন্দিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান- গান পরিবেশনা এবং প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। কিছুক্ষণের জন্য হলেও এ সব আয়োজন ভুলিয়ে দেয় বন্দি জীবনের একঘেয়েমি।

ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা। তিন দিনের মধ্যে একবার পাঁচ মিনিটের জন্য পরিবারের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার সুযোগ পান তারা। স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ ও তাদের আনা খাবার নেওয়ার সুযোগ থাকে। 

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বজনদের আনা প্রতিটি খাবার কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশির মাধ্যমে যাচাই করে তবে ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বন্দিদের এই আনন্দঘন মুহূর্ত উপভোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

কারাগারের বাইরে অপেক্ষমাণ স্বজনদের জন্য রাখা হয়েছে সামান্য আপ্যায়ন-চকলেট ও জুস। প্রিয়জনের সঙ্গে কয়েক মিনিটের দেখা ও কথা, এই অল্প সময়টুকুই যেন তাদের কাছে ঈদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।

কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ আল মামুন জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে বন্দিদের জন্য বাড়তি আয়োজন করা হয়েছে। খাবারের মান উন্নয়ন, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি, সবকিছুই তাদের মানসিক স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্যে।

কারাগারের কঠোর বাস্তবতায় আবদ্ধ মানুষের জীবনেও ঈদ এনে দেয় একটুখানি আনন্দ। স্বজনের কণ্ঠ, ভালোবাসার স্পর্শ আর ছোট ছোট আয়োজন; এসবই বন্দিদের মনে জাগায় নতুন করে বাঁচার আশা, নতুন দিনের প্রত্যাশা।