সারা বাংলা

বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে কুয়াকাটায় পর্যটকের ঢল

পটুয়াখালীতে সকাল থেকেই ছিল গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। এমন বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে ঈদের দিনে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় ভিড় জমিয়েছেন পর্যটকরা। পর্যটকদের নিরাপত্তায় তৎপর ছিল ট্যুরিস্ট পুলিশ।

শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে কুয়াকাটায় পর্যটকদের আগমন ঘটতে শুরু করে। তাদের বেশিরভাগই স্থানীয়সহ পার্শ্ববর্তী জেলা-উপজেলার বাসিন্দা। ঈদের পরদিন থেকে পর্যটকের ভিড় বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। আসবেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পর্যটকরা সমুদ্রের নোনা জলে গা ভাসিয়ে মেতেছেন বৃষ্টিবিলাসে। অনেকেই সৈকতের বেঞ্চিতে বসে উপভোগ করছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। কেউবা মেতেছেন বালু খেলায়। অনেকে আবার ঘোড়া কিংবা মোটররবাইকসহ বিভিন্ন বাহনে ঘুরে দেখছেন বিভিন্ন পর্যটন স্পট। অনেকে ওয়াটারবাইকে করে সমুদ্রে ছুটেছেন। 

বিক্রি বেড়েছে পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। বুকিং হয়েছে কুয়াকাটার ৮০ ভাগ হোটেল-মোটেল। আগামীকাল থেকে পর্যটকদের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে ধারণা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

বরগুনা থেকে আসা সায়মা-শাকিল দম্পত্তি বলেছেন, “ঈদের নামাজ শেষ করে পরিবারের সঙ্গে কিছু সময় কাটিয়ে দুপুরের মধ্যেই কুয়াকাটায় চলে এসেছি। বৃষ্টির মধ্যে সমুদ্রে সাঁতার কেটেছি। তখন সমুদ্রে ছোট ছোট ঢেউ ছিলো। দারুণ এক অনুভূতি হয়েছে। কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেছি। বেশ ভালোই লেগেছে।” 

বরিশাল থেকে আসা হোসেন সিকদার বলেন, “আমরা বন্ধুরা মিলে বিকেল ৩টার দিকে কুয়াকাটায় এসেছি। বৃষ্টির কারণে কিছুটা মন খারাপ ছিল। তবে, বন্ধুরা মিলে বৃষ্টির মধ্যেই সমুদ্রে সাঁতার কেটেছি। আমরা আজ যে আনন্দ পেয়েছি, তা কোনোদিনই ভুলব না।”

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেছেন, “বৃষ্টির কারণে সকালে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও বিকেল থেকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। সৈকত-সংলগ্ন অধিকাংশ হোটেল-মোটেলের ৮০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। আগামীকাল থেকে পর্যটকের সংখ্যা আরো বাড়বে এবং আমরা শতভাগ সিট বকিংয়ের আশা করছি।”

ট্যুরিস্ট পুলিশের কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেছেন, “সকালে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও দুপুর থেকে পর্যটক বাড়তে শুরু করেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিভিন্ন ট্যুরিস্ট স্পটে বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি থানা পুলিশ, নৌ পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা মাঠে তৎপর আছেন।”