কুমিল্লার পদুয়ারবাজারে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের রেল ক্রসিংয়ে শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত ভোররাতে বাস ও ট্রেনের সংঘর্ষের সময় রেলপথের গেট খোলা ছিল। ওই সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছে।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনটি ক্রসিং পার হওয়ার সময় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাস রেললাইনে উঠে পড়লে সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের পর দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া বাসটিকে ছেঁচড়ে বেশ কিছু দূরে নিয়ে যায় ট্রেন। দুর্ঘটনার সময় লেভেল ক্রসিংয়ে দায়িত্বে ছিলেন গেটম্যান মেহেদী ও হেলাল। তারা কেউ ট্রেন ক্রসিং অতিক্রম করার সময় পাশে ছিলেন না। গেটও বন্ধ করা হয়নি। খোলা গেট দিয়ে বাস কোনো বাধা ছাড়ায় ক্রসিংয়ে উঠে পড়ে।
দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘‘আমি ক্রসিং পার হওয়ার জন্য মোটরসাইকেলে পাশেই দাঁড়িয়েছিলাম। দেখলাম ট্রেন আসছে। গেট ফেলানো ছিল না।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘বাস আর ট্রেন প্রায় মুখোমুখি হয়ে যায়। কোনো বাধা ছাড়া বাস ক্রসিংয়ে উঠে পড়ে। সংঘর্ষে ট্রেন বাসটিকে টেনে নিয়ে গেছে। তারপর স্থানীয়রা এগিয়ে এসে হতাহতদের উদ্ধার করে।’’
গেটম্যান মেহেদী ও হেলালকে দুর্ঘটনার পর পাওয়া যায়নি। তাদের দুজনকেই সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ দুর্ঘটনায় রেলওয়ের দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের (চট্টগ্রাম) বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান।
তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে এবং নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
এ দুর্ঘটনায় আহত আটজন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
দুর্ঘটনার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর আখাউড়া থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে বাসটি আপলাইন (ঢাকামুখী লাইন) থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং রেল চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু হয়।
কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস সাংবাদিকদের বলেন, “গেটম্যানের অবহেলার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।”