পবিত্র ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনে স্বপ্নপুরীতে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে মানুষ আসছেন এই বিনোদন কেন্দ্রে।
১৯৮৯ সালে প্রায় সাড়ে চারশ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা এই বিশাল পার্ক দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নে অবস্থিত। এটি উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
রবিবার (২২ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, পিকআপ, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা পার্কে আসছেন। প্রধান গেট থেকে দুই পাশে বিস্তৃত প্রশস্ত রাস্তা, যার দুই ধারে ও মাঝখানে শোভা পাচ্ছে নানা রঙের ফুল ও শোভাবর্ধনকারী গাছ। পুরো পার্কটি সাজানো হয়েছে বিভিন্ন নান্দনিক ভাস্কর্য ও মনোরম স্থাপনায়। বিশেষ করে পার্কের প্রবেশমুখে ডানাকাটা দুটি পরীর ভাস্কর্য দর্শনার্থীদের স্বাগত জানায়, যা পার্কটির অন্যতম আকর্ষণ।
পার্কের ভেতরে একটি মিনি চিড়িয়াখানা রয়েছে। সেখানে ভালুক, হরিণ, অজগর, বানর, কুমির, ভোদর, উটপাখি, সজারু, খরগোশসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রাণী রয়েছে। এ ছাড়াও পার্কে রয়েছে সুইমিংপুল। কৃত্রিম জীবজন্তু, রংধনু, ট্রেন, স্পিড বোট, নৌ-থিয়েটার, ভূতের বাড়ি, বাম্পার কার, রোলার কোস্টার, সান্তা মারিয়া, থ্রিডি জোন, বরফ জগৎ, সেভেন ওয়ান্ডার্স, কেবল কার, দোলনা, আজব গুহা, ঘোড়ার গাড়ি, টেলিকমপাসসহ নানা রাইড ও বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে পার্কটিতে।
চাইলে যে কেউ এখানে রাতযাপন করতে পারবেন। এসি রুমের ভাড়া ১৫০০–২০০০ টাকা এবং নন-এসি ১০০০–১২০০ টাকা।
দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে এই পার্কে আসতে হলে বগুড়া হয়ে গোবিন্দগঞ্জ হয়ে বিরামপুর, এরপর নবাবগঞ্জে পৌঁছাতে হয়। আর পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও রংপুর থেকে আসতে হলে ফুলবাড়ী হয়ে আসা যায়। ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে পার্কে বেড়াতে এসেছেন আসিফ ইকবাল। তিনি বলেন, ঈদের পর দুইদিনের জন্য এখানে এসেছি। অনেক ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছি।
স্বপ্নপুরীর প্রতিটি দৃশ্য মনোমুগ্ধকর। দারুণ সময় কাটছে। আশা করছি প্রতিবছর এই স্বপ্নের রাজ্যে আসবো, বলেন কানিস রহমান।
গাইবান্ধা থেকে আসা তারিকুল ইসলাম বন্ধুদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার এই পার্কে বেড়াতে এসেছেন। তিনি বলেন, এটি উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় বিনোদন পার্ক। পার্কের প্রায় প্রতিটি প্যাকেজে ঘুরেছি, সময়গুলো খুব ভালো কাটে।
স্বপ্নপুরীর জেনারেল ম্যানেজার মিজানুর রহমান জানান, শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের জন্য পার্কে বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। ঈদে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বাস পার্কিং ১০০ টাকা, ছোট গাড়ি ৫০ টাকা এবং জনপ্রতি প্রবেশ টিকিট ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।