সারা বাংলা

নড়াইলে ঈদ উৎসবে ৩৬ ষাঁড়ের লড়াই

ঈদের দ্বিতীয় দিনে আনন্দ বাড়িয়ে তুলতে নড়াইলের কালিনগর মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের লড়াই। রবিবার (২২মার্চ) বিকেলে সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের কালিনগর মাঠে এ ষাঁড়ের লড়াই অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় আশপাশের উপজেলা থেকে ৩৬টি ষাঁড় অংশ নেয়। 

ষাঁড়ের লড়াই কেন্দ্র করে গ্রামজুড়ে উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে কয়েক হাজার দর্শনার্থী এ ষাঁড়ের লড়াই দেখতে গ্রামটিতে ভিড় করেন। 

বিছালী ও কালিনগর গ্রামের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বিছালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিমায়েত হুসাইন ফারুক। এসময় বক্তব্য রাখেন বিছালী ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি কাজী হাসরাত, আয়োজক কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, ইউপি সদস্য কামরুল বিশ্বাস, বিছালী ক্যাম্পের ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

দুপুর থেকে লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকে। বিকেলে কালিনগর মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ষাঁড়ের লড়াইয়ের মাঠ ঘিরে চারিপাশে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শুধু মাঠেই নয়। রাস্তায় পাশে থাকা গাছে উঠে ষাঁড়ের লড়াই দেখতে দেখা যায় উৎসুক দর্শনার্থীদের।

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ ষাঁড়ের লড়াই ঘিরে বসে নানা পণ্যের দোকান। চানাচুর,পাপর, মিষ্টি, স্থানীয় হরেক রকম খাবার থেকে শুরু করে খেলনা, মাটির তৈজসপত্র, হস্তশিল্প সহ নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা।

বিছালী গ্রাম থেকে ষাঁড়ের লড়াই দেখতে মাঠে এসেছেন ষাটোর্ধ কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ষাঁড়ের লড়াই দেখতে ভালোই লাগে। ঈদের পরের দিন কালিনগর মাঠে ষাঁড়ের লড়াইয়ের আয়োজন করায় নাতিকে নিয়ে লড়াই দেখার সুযোগ হয়েছে। নাতিটাকে এই লড়াই দেখাতে পেরে আনন্দটা বেশি অনুভব করছি ।

স্থানীয় সাংবাদিক আ. ছালাম খান বলেন, ষাঁড়ের লড়াই গ্রাম বাংলার এক অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ। এটি শুধু একটি সাধারণ খেলা নয়, এটি বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে লালল করে। গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্য সাংস্কৃতি দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে। তিনি এ ধরনের আয়োজনের মধ্যে দিয়ে গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান। 

আয়োজক কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গ্রাম বাংলা ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ লড়াইয়ের আয়োজন করা হয়েছে। ঈদের আনন্দ বাড়িয়ে তুলতে দুই গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে এ লড়াইয়ের আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে ঈদ ছুটিতে শহর থেকে অনেকে গ্রামের বাড়ি এসেছেন তাদের পরিবার নিয়ে। পরিবার স্বজন নিয়ে একটু বিনোদনের জন্য দুই গ্রাম মিলে হয়ে আমাদের এই আয়োজন। এই আয়োজন ধরে রাখার চেষ্টা থাকবে।