টানা ঈদের ছুটিতে রাঙামাটির বিনোদনকেন্দ্রগুলো এখন দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঈদের দিন থেকেই রাঙামাটি ভ্রমণ করছেন হাজারো পর্যটক।
সোমবার (২৩ মার্চ) সকালেও রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু, পলওয়েল পার্ক ও আরণ্যকে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। নিরাপত্তা নিয়েও সন্তুষ্ট পর্যটকরা।
ঈদের তৃতীয় দিন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পর্যটকরা দলে দলে ভ্রমণ করছেন ঝুলন্ত সেতুতে। কেউ আসছেন পরিবার নিয়ে, কেউ প্রেমিক-প্রেমিকাকে আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন এখানে। শুধু ঝুলন্ত সেতুতেই তাদের ভ্রমণ সীমাবদ্ধ নয়। নৌঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে কাপ্তাই হ্রদে নৌবিহার করছেন পর্যটকরা। হ্রদ-পাহাড়ের সৌন্দর্য যান্ত্রিক জীবনের একঘেয়েমি দূর করছে।
ঝুলন্ত সেতু ছাড়াও শহরের অন্যান্য স্পট পলওয়েল পার্ক, আরণ্যকেও পর্যটকদের বিপুল উপস্থিতি রয়েছে। শিশুরা টয় ট্রেন ও দোলনাতে চড়ে আনন্দ উপভোগ করছে। পলওয়েল পার্কের মিনি ঝুলন্ত সেতুতে হেঁটে বেড়াচ্ছেন কেউ কেউ। হ্রদের শান্ত জল ও সবুজ প্রকৃতি দেখে বিমোহিত পর্যটকরা।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা মো. কবির বলেন, পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে রাঙামাটি ঘুরতে আসলাম। চমৎকার পরিবেশ। হ্রদের পানিও শান্ত ও স্বচ্ছ। এমন সৌন্দর্য বাংলাদেশের মধ্যে লুকিয়ে আছে, সেটা নিজের চোখে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না।
চট্টগ্রামের লালখান বাজার থেকে আসা পর্যটক দম্পতি বলেন, ঈদের পরেরদিন পরিবার নিয়ে রাঙামাটি এসেছি। ইতোমধ্যে আরণ্যক ও পলওয়েল পার্ক ঘুরেছি। এবার কাপ্তাই হ্রদে এসেছি। হ্রদের সৌন্দর্য আমাদের সত্যিই বিমোহিত করেছে।
পর্যটন নৌযান চালক কল্যাণ সমিতির সভাপতি এবিএম সালাহ উদ্দিন বলেন, ঈদের দিন দুপুর থেকে পর্যটকরা রাঙামাটি আসতে শুরু করেছে। আগামী শনিবার পর্যন্ত প্রতিদিনই রাঙামাটিতে প্রচুর পর্যটক হবে বলে আমরা আশা রাখছি।
রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, ঈদের দিন থেকে রাঙামাটিতে পর্যটকরা আসছেন। আমাদের যে টার্গেট ছিল ঈদকে ঘিরে, আশা করছি, সেটা পূরণ হবে। বর্তমানে আমাদের হোটেল-মোটেলগুলোতে প্রায় ৮০ শতাংশ বুকিং রয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের রাঙামাটি জোনের উপ পরিদর্শক উইলিয়াম ত্রিপুরা বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারে সেই বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ সজাগ রয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলে জানালেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।