ঈদের ছুটিতে খুলনার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ব্যস্ততার নগরী ছেড়ে মানুষ ছুটে যাচ্ছে নদীর ধারে কিংবা বিনোদন স্পটে। কেউ কেউ যাচ্ছে সুন্দরবনে। পরিবার-পরিজনের হাসি, শিশুদের উচ্ছ্বাস আর তরুণদের উল্লাসে এসব স্পটগুলোতে তৈরি হয়েছে এক উৎসবমুখর আবহ।
ঈদের তৃতীয় দিন সোমবারও (২৩ মার্চ) ভিড় লেগে রয়েছে খানজাহান আলী (র.) সেতু (রূপসা সেতু), শহীদ হাদিস পার্ক, ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট, বনবিলাস চিড়িয়াখানা, জাতিসংঘ শিশুপার্ক, দিঘলিয়ার ঈদ মেলা, উল্লাহ পার্ক, খুলনা রিভারভিউ পার্ক, ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক ও সুন্দরবনে।
বিশেষ করে ৫ নম্বর ঘাট এলাকা, রূপসা ব্রিজ, পার্ক এবং শহরের বিভিন্ন বিনোদন স্পটগুলো হাজার হাজার মানুষের কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠেছে। দর্শনার্থীরা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে এসব স্পটে ভিড় জমাচ্ছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
খুলনার ঈদ বিনোদনের জনপ্রিয় স্থানগুলো হচ্ছে- নগরীর ৫ নম্বর ঘাট এলাকা, রূপসা সেতু সংলগ্ন এলাকা এবং শহরতলীর বিভিন্ন পার্ক। এসব স্পটে মানুষের বেশি ভিড় রয়েছে। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর বিনোদন কেন্দ্রগুলো সাধারণ মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। উৎসবের দ্বিতীয় দিন থেকে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে। মূলত ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পরিবার-পরিজন নিয়ে খুলনার দর্শনার্থীরা বিভিন্ন পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রে সময় পার করছেন।
খুলনার বিনোদনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে যেগুলোতে দর্শনীয় ফি এবং রাইড ফি বেশি হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন সেসব কেন্দ্রগুলো এড়িয়ে চলেন। এজন্য একটু মুক্ত হাওয়ায় কিছুট সময় কাটাতে এসব বিনা টাকার স্থানগুলোতেই ভিড় বাড়ছে প্রতিনিয়ত। এভাবেই নিত্য-নতুন বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠছে খুলনায়। বিনোদনকেন্দ্রের অভাবে খুলনার ভ্রমণপিপাসুরা নিত্য-নতুন বিনোদনকেন্দ্র খুঁজে নিচ্ছেন।
খুলনার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রূপসা, ভৈরবসহ নদী পাড় ও ফাঁকা জায়গাগুলো পরিণত হয়েছে একেকটি বিনোদনকেন্দ্রে। খুলনার ৬ ও ৭ নম্বর ঘাটকেন্দ্রিক ভৈরব নদের তীরে অনেকদিন ধরেই ছুটির দিবস কেন্দ্রিক বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়। এছাড়া উৎসবের বাইরেও যে কোনো ছুটির দিনে সেখানে চলে জনসমাগম।
নগরীর আর একটি বিনোদনকেন্দ্র রূপসা সেতুর দু’পাড়। ঈদের ছুটিতে সেখানেও দেখা যায় ব্যাপক ভিড়। কেউ পরিবারসহ আবার কেউ বন্ধু-বান্ধবসহ ঘুরতে যান সেখানে।
বিনোদনকেন্দ্রের আর একটি স্পট হচ্ছে, রূপসা তীরের খুলনার রিভারভিউ পার্ক। যেটি আগে ছিল শেখ রাসেল ইকো পার্ক। খুলনা জেলা প্রশাসন পরিচালিত ওই পার্কের দক্ষিণে কিছুদূর গিয়ে রূপসা ও কাজীবাছা নদীর সংযোগস্থলকে ঘিরেও গড়ে উঠেছে বিনোদনকেন্দ্র। যেটি এক সময় ছিল বটিয়াঘাটা ফেরিঘাট। নদীর ভাঙ্গনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্লক কেন্দ্রিক স্থানে প্রতিদিন বিকেলে সেখানে দর্শনার্থীরা ভিড় করেন। যেটি শ্মশান পাড় হিসেবে পরিচিত।
বটিয়াঘটা থেকে দাকোপের দিতে যাওয়ার পথে নদীর পাড়েও প্রতিদিন বিকেলে, বিশেষ করে যে কোনো ছুটির দিনে প্রচুর মানুষের ভিড় জমে। যেখানে আগে থেকে ছোটখাটো ফুডকোড ও চা-কফির স্টল গড়ে উঠেছে।
নগরীর সোনাডাঙ্গা থানা থেকে পশ্চিমে গিয়ে খালাশী মোড়ের কাছাকাছি গড়ে ওঠা কেডিএ’র ময়ূরী আবাসিক এলাকাটিও এখন এক প্রকার বিনোদনকেন্দ্র। সেখানে প্লটিং করে সড়কগুলো পিচ ঢালাই করা হলেও এখনো বাড়ি তৈরি ও বসবাস শুরু হয়নি। এ জন্য মুক্ত বাতাসে ঘুরতে যান দর্শনার্থীরা। অনেকসময় ইউটিউবারদের স্যুটিং হিসেবেও ব্যবহৃত হয় জায়গাটি।
এর বাইরেও নগরীর শহীদ হাদিস পার্ক, জাতিসংঘ শিশুপার্ক, সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক, সোনাডাঙ্গা ১ নম্বর আবাসিক এলাকা শিশুপার্ক, নিরালা শিশুপার্ক, ফরেষ্ট ঘাটসহ অনেক জায়গায় মানুষ ছুটির দিনে ঘুরতে যাওয়ায় অনেকটা ঘোষিত/অঘোষিত বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
ফলে বড় ধরনের ভিড় সামলাতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
রূপসা সেতুতে ঘুরতে আসা কলেজ ছাত্রী তাসলিমা আক্তার বলেন, ‘‘প্রতিবছর ঈদে এখানে ঘুরতে আসি। পরিচিত অনেকের সঙ্গে দেখা হয়। তাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারি।’’
দিঘলিয়ার ঈদ মেলায় আসা দর্শনার্থী আব্দুল রহিম শেখ বলেন, ‘‘আমরা সারা বছর এই মেলার জন্য অপেক্ষা করি। আমাদের এলাকা তো একটু বিচ্ছিন্ন, শহরে যেতে কষ্ট হয়। তাই এই মেলাই আমাদের ঈদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।’’
সুন্দরবনেরমকরমজল পর্যটন ও বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, ‘‘সুন্দরবনে বেশি লোক আসে দুই সময়ে। একটা হলো শীত মৌসুম, আর একটি হলো ঈদ মৌসুম। ঈদের ছুটিতে প্রচুর পর্যটক এসেছে। অতিরিক্ত পর্যটকদের চাপ সামলাতে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। সব জায়গায় আমাদের বনকর্মী রয়েছে।’’