কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ট্রেনের ধাক্কায় বাসের ১২ যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে শেফালী আক্তার নামে এক নারী বাদী হয়ে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ের গেইটম্যান হেলাল উদ্দিন ও মেহেদী হাসানকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া, রেলক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অজ্ঞাতনামা হিসেবে আসামি করা হয়েছে। গত শনিবার গভীর রাতের ওই ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ওই দুজনকে বরখাস্ত করেছিল রেলওয়ে বিভাগ।
প্রধান আসামি হেলাল উদ্দিন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পদুয়ার বাজারের রেলওয়ে ওভারপাসের নিচে থাকা রেলগেট নম্বর ই/৪৭-এর অস্থায়ী গেটম্যান হিসেবে কর্মরত। অন্য আসামি মেহেদী হাসান বুড়িচং উপজেলার বাহিরীপাড়া এলাকার আবদুল কাদেরের ছেলে। তিনি ওই লেভেল ক্রসিংয়ে ওয়েম্যান হিসেবে কর্মরত।
মামলায় বাদী শেফালী আক্তার নিজেকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুর গ্রামের সোহেল রানার খালা বলে উল্লেখ করেছেন। সোহেল রানা দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের একজন। শেফালী আক্তার লাকসাম উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের প্রয়াত আক্তারুজ্জামানের স্ত্রী।
লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি জসীমউদ্দীন বলেন, “মালয়েশিয়া প্রবাসী সোহেল রানা ঈদ করতে চুয়াডাঙ্গায় দেশে বাড়ি আসেন। সেখান থেকে ঈদের দিন কুমিল্লার লাকসামে খালার বাড়িতে বেড়াতে আসার সময় রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। একই দুর্ঘটনায় আহত সোহেল রানার স্ত্রী ও মেয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় সোহেল রানার খালা শেফালী আক্তার বাদী হয়ে মামলা করেছেন।”
গত শনিবার রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে বাসে ট্রেনের ধাক্কায় ১২ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হন আটজন।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনটি ক্রসিং পার হওয়ার সময় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসকে ধাক্কা দেয়। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাসটিকে ছেঁচড়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেনটি।