ঈদের তৃতীয় দিনেও চায়ের রাজধানীখ্যাত মৌলভীবাজারে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ভ্রমণপিপাসুরা পরিবার-পরিজন নিয়ে এদিন ছুটে বেড়িয়েছেন জেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে।
বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে মানুষের ভিড় ছিল। তারা সবুজ চা বাগান, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ আর নির্মল পরিবেশ প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে বেছে নিয়েছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, পর্যটকদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। কোথাও কোথাও কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত যানবাহনের সারি দেখা গেছে। ফলে অনেক পর্যটককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে।
পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রবেশের সময়ও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায় দর্শনার্থীদের। হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও খাবারের দোকানগুলোতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়।
পর্যটকদের অনেকেই জানান, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মৌলভীবাজারে এলেও যানজট ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে তাদের। ছুটির বাকি দিনগুলোতেও মৌলভীবাজারের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের এই চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
ঢাকা থেকে আগত নার্গিস সুলতানা বলেন, “মায়াবী সবুজ প্রকৃতির আর্কষণে আপনজন নিয়ে এসেছি ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে। ভালো লাগছে, তবে যানজটের কারণে ভোগান্তি হয়েছে।”
দীর্ঘ ছুটিতে ঘুরাঘুরি করতে কুমিল্লা থেকে আসা স্নিগ্ধা বলেন, “প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করে অনেক আনন্দ পেয়েছি।”
পরিবার নিয়ে সুনামগঞ্জ থেকে এসেছিলেন হামিদুর রহমান। তিনি বলেন, “প্রকৃতিকে দেখতে সবাইকে নিয়ে এসেছি। অনেক ভালো লেগেছে। ঘুরে ঘুরে অনেক কিছু দেখলাম। বার্ড পার্কে হরেকরকম পাখি দেখলাম।”
ট্যুরিস্ট পুলিশের শ্রীমঙ্গল জোনের অফিসার ইনচার্জ মো. কামরুল হাসান চৌধুরী বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সবাইকে ধৈর্য ধরে ভ্রমণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সাময়িক ভোগান্তি দূর করতে আমরা সচেষ্ট।”