পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের ভ্রাম্যমাণ ফুল বিক্রেতা সম্রাট ইসলাম (৩০)। বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়নের গৌরম্ভা গ্রামের এই বাসিন্দা প্রায় তিন বছর ধরে ফুল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এই সৈকত থেকে। ফুল বিক্রিতে পর্যটকদের মন জয় করতে পারলেও এবারের ঈদ তার কাটছে বিষন্নতায়। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অর্থের অভাবে পরিবার পরিজনের সঙ্গে ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে পারেননি এ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। দীর্ঘ এক মাস কুয়াকাটা পর্যটক শূন্য থাকায় এমন পরিস্থিতিতে পড়েন তিনি।
ঈদের দিন থেকে পর্যটকের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেচাকেনা বাড়তে শুরু করেছে সম্রাটের। কুয়াকাটায় যতো পর্যটক বাড়বে ততোই বিক্রি বাড়বে, পাশাপাশি ঈদ আনন্দ বাড়বে বলে জানান তিনি। তার আশা কুয়াকাটায় লাখ লাখ পর্যটকের আগমন ঘটবে এবং ঈদে তিনি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করবেন।
সমুদ্র সৈকতে শিশুদের কাছে খেলনা বিক্রিতে ব্যস্ত ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী
সম্রাট জানান, অন্তত ১৫ দিন সৈকতে পর্যটক থাকতে হবে। লক্ষ্য পূরণ হলেই পেছনের লোকসান কাটিয়ে উঠবেন। পর্যটকের চাপ কমলে পরিবার পরিজনের সঙ্গে ঈদ আনন্দে মাতবেন এমন আশায় বুক বেঁধেছেন তিনি। তার আক্ষেপ দীর্ঘ এক মাস পর্যটক না থাকায় নানা সংকটে দিন কাটলেও সরকারি কোনো সহায়তা পাননি।
শুধু সম্রাট ইসলামই নয় একই কথা জানিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ কফি বিক্রেতা হৃদয়, আইসক্রিম বিক্রেতা আলআমিন ও ঝালমুড়ি বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম।
কুয়াকাটা সৈকতের ভ্রাম্যমাণ আচার বিক্রেতা পঞ্চাশোর্ধ্ব মোসলেম মিয়া বলেন, “ঈদের সময় সবাই নাতি-নাতনিদের নিয়ে আনন্দে সময় কাটায়। আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি বেড়াতে যান। আমরা যারা ছোট ব্যবসায়ী আছি, আমাদের কোনো ঈদ নেই। আমাদের ঈদ কাটছে ব্যস্তায়। কারণ একমাস একেবারে বেকার কাটিয়েছি, ধার-দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছি।”
সৈকতে বেড়াতে আসা অনেকেই আচার কেনেন মোসলেম মিয়ার কাছ থেকে
তিনি বলেন, “সংকটকালীন সময়ে সরকারি বা বেসরকারি কোনো সহযোগিতা পাইনি। বর্তমানে যে পরিমাণে পর্যটক আসছেন এভাবে টানা ১৫ ড়িন পর্যটক থাকলে আমরা ধার দেনা কাটিয়ে উঠতে পারব। তখন ঈদ আনন্দ শুরু হবে আমাদের।”
আইসক্রিম বিক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, “আমাদের ঈদ কাটে বেচাকেনার মধ্য দিয়ে। কুয়াকাটায় যত পর্যটক বাড়বে ততো আমাদের ঈদ আনন্দ বাড়বে। এক মাস পর্যটক না থাকায় আমরা অলস সময় কাটিয়েছি। ধার-দেনা করে জীবিকা চালিয়েছি। এখন যদি ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যটকের চাপ থাকে এবং ভালো বেচাকেনা হয় আমরা লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারব। ভালো বিক্রি হলে পর্যটকের চাপ কমার পর পরিবার নিয়ে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে পারব।”
কুয়াকাটা সৈকতে আইসক্রিম ও ঝালমুড়ি বিক্রেতা
ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অফ কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “কুয়াকাটায় প্রায় পাঁচ শতাধিক ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ী রয়েছে। পর্যটক না আসায় ঈদের আগে এক মাস তারা কর্মহীন হয়ে পড়েন। পরে অবশ্য বেচা বিক্রি বাড়ে। ঈদের আগে তারা যে লোকসানে পড়ে তা কাটিয়ে উঠতে অনেক কষ্ট হয়। প্রতি বছর রমজান মাসে সংকটকালীন সময়ে তাদের সহযোগিতার বিষয়ে আমরা প্রশাসনকে অবহিত করেছি।”
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউসার হামিদ বলেন, “রমজান মাসে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার জন্য কোন ফান্ড থাকে না। তবে, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কর্মহীন সময়ে যাতে সহযোগিতা পেতে পারেন সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।”