ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছে শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, বাস ও পণ্যবাহী যানবাহন। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চালক ও সাধারণ মানুষ।
পরিবহন চালকরা জানান, সরবরাহ সীমিত হওয়ায় সবাই পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না। ফলে কর্মঘণ্টা ও ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে তাদের। ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চাহিদা অনুযায়ী তেলের সরবরাহ না পাওয়ায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
তেল নিতে আসা পরিবহন চালকরা জানান, অনেকেই সকাল থেকে পাম্পের সামনে লাইনে অবস্থান করছেন, যাতে তেল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পাম্প থেকে সবাই পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল পাচ্ছেন না।
মোটরসাইকেল চালক মো. হান্নান বলেন, “সকাল ৯টা থেকে তেলের জন্য পাম্পের সামনে অপেক্ষা করছি। এখন সকাল ১০টা বাজে, এখনো তেল পাইনি। অফিসে যেতে দেরি হচ্ছে, কিন্তু কিছু করার নেই।”
পণ্যবাহী ট্রাকের চালক বাছেদ মিয়া বলেন, “তেল না পেলে গাড়ি চালানো সম্ভব না। ফলে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে, সময়মতো পণ্য পৌঁছানো যাচ্ছে না।”
কেরাণীগঞ্জ নূর ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. সারোয়ার বলেন, “আমাদের কাছে যতটুকু তেল আসে তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এ কারণে আমরা বাধ্য হয়ে সীমিত পরিমাণে তেল সবার কাছে বিক্রি করছি।”
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উমর ফারুক বলেন, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কিছু অসাধু চক্র তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি ও দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।