সারা বাংলা

স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ

মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। ইতোমধ্যে সৌধ মিনারসহ পুরো চত্বরের হাঁটার পথ, বেদি, স্থাপনা সেজেছে রঙ-তুলির আঁচড়ে। বাগানে শোভা পাচ্ছে রং-বেরঙের ফুল।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ৫৬তম মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতির বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাবে সারা দেশ। দিবসটি উপলক্ষে রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পালন করা হবে নানা কর্মসূচি।

এদিন স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীপরিষদের সদস্যসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। আসবেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাদের শ্রদ্ধা জানানো শেষে ঢল নামবে সাধারণ মানুষের।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সৌধ চত্বরে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করেছে সাভার গণপূর্ত বিভাগ। ইটের পথ, শহীদ বেদি ও গণকবর ধোয়ামোছার পর সাদা রঙের শুভ্র আভায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে পুরো সৌধ এলাকা। বৃক্ষরাজির প্রাঙ্গণ আর সবুজ ঘাসের গালিচা কেটেছেঁটে নান্দনিক করে তোলার কাজও শেষ।

বুধবার স্মৃতিসৌধ চত্বর ঘুরে দেখা যায়, স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনের প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মীরা। কয়েকজন মিলে সড়কের পাশে ফাঁকা জায়গায় ঘাসের চারা রোপণ করছেন। কেউ ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করছেন স্মৃতিসৌধ চত্বর, কেউবা রঙ-তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলছেন বেদিসংলগ্ন সিঁড়িগুলো। সবুজ ঘাসের গালিচা কেটেছেঁটে নান্দনিক করে তোলা হয়েছে। পুরনো ফুলের গাছ পরিচর্যা করার পাশাপাশি রোপণ করা হয়েছে নানা জাতের ফুলের গাছ। ভবনের দেয়ালে ঝোলানো হয়েছে বর্ণিল আলোকবাতি।

জাতীয় স্মৃতিসৌধের ইনচার্জ সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, “স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্মৃতিসৌধ কমপ্লেক্স ধুয়ে মুছে পরিষ্কার, রং-তুলির কাজ, ফুলের গাছ রোপণ, লেক সংস্কার কাজসহ বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন শেষ হয়েছে। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিসৌধ পুরোপুরি প্রস্তুত। নিরাপত্তার লক্ষ্যে গত ১৬ মার্চ থেকে স্মৃতিসৌধে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সংরক্ষিত করা হয়েছে। আগামীকাল রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্মৃতিসৌধ সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।”

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. আরাফাতুল ইসলাম বলেন, “২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপিত হবে। এ উপলক্ষে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে।”

কয় স্তরে নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “সবসময়ের মতোই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা থাকবে। সড়ক ও আশপাশের এলাকায় যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে—সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্মৃতিসৌধ কেন্দ্রিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হবে। যারা এখানে আসবেন সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”

সড়ক পথে যাতায়াতে কোনো নির্দেশনা রয়েছে কি না প্রশ্নে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “সড়ক পথ স্বাভাবিক থাকবে। যারা এই পথে চলাচল করবেন, তারা নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই চলাচল করতে পারবেন।”