পটুয়াখালীর বাউফলে স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান চালাকালে চেয়ারে বসা নিয়ে ছাত্রদল ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পৌর শহরের পাবলিক মাঠে ঘটনাটি ঘটে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা জানান, সকালে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক খালিদুর রহমানের নেতৃত্বে জেলা ও উপজেলা ছাত্রশিবিরের নেতারা অনুষ্ঠানস্থলে আগেভাগে উপস্থিত হয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় সাড়ির সব চেয়ারে বসে পড়েন। কিছু সময় পরে সাবেক সংসদ সদস্য সহিদুল আলম তালুকদারের নেতৃত্বে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন।
এসময় উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ বিএনপির সিনিয়র নেতাদের জন্য কিছু চেয়ার ছেড়ে দিতে বললে উভয় পক্ষ বাকবিতণ্ডায় জড়ান। এক পর্যায়ে ছাত্রদল ও জামায়াত নেতাকর্মীরা হাতাহাতি এবং পরবর্তীতে মারামারিতে জড়ান। ফলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ মিলু এবং বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) মো. আতিকুল ইসলাম উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
এ বিষয়ে জানতে বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তসলিম তালুকদারকে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। জামায়াত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বাউফল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ মিলু বলেন, “দুই পক্ষের মধ্যে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। উপস্থিত সবার সহযোগিতায় বিষয়টি দ্রুত মীমাংসা করা হয়। মাঠের অনুষ্ঠান বন্ধ হয়নি। নির্ধারিত কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠান যথাযথভাবে শেষ হয়েছে।”
বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, “সামনে বসা নিয়ে দুই দলের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা সমাধান করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”
অনুষ্ঠানে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মো. সহিদুল আলম তালুকদার, জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির মাওলানা মো. ইসাহাক মিয়াসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।