গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আরিফুল আলম আবিরের উপস্থিতিতে পাভেল নামে ছাত্রদলের এক কর্মীকে মারধর ও হাতের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতা ও অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী পাভেলের দাবি, ছাত্রলীগ নেতা আবিরের নেতৃত্বে বহিরাগতরা এসে হামলা চালিয়েছে। যদিও অভিযুক্ত ছাত্রলীগ করেন কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে ক্যাম্পাসের সংসদ হল কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজে কনসার্টের আয়োজন করা হয়। কনসার্ট শুরুর আগে ক্যাম্পাসের সংসদ কক্ষে কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ উঠে। কলেজের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী পাভেল এর প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগ নেতা আবিরের নেতৃত্বে বহিরাগত আরো কয়েকজন সংসদ হল কক্ষে ঢুকে পাভেলকে কোপাতে শুরু করে। এতে তার মাথায় আঘাত লাগে। একপর্যায়ে তার হাতের রগ কেটে দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আরিফুল আলম আবির উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু, তিনি এর প্রতিবাদ করেননি। এমনকি পাভেলকে বাঁচাতে এগিয়েও আসেননি।
পাভেল বলেন, “স্বৈরাচার হাসিনার পতনের পর তার সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এই কলেজে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আবিরের নেতৃত্বে একদল বহিরাগত এখনো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে।”
তিনি বলেন, “বৃহস্পতিবার তারা ক্যাম্পাসে ঢুকে ছাত্রীদের উত্যক্ত এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল। এর প্রতিবাদ জানাই। এটাই ছিল আমার অপরাধ। এরপরই সন্ত্রাসী আবিরের নেতৃত্বে তার বহিরাগত বাহিনী আমাকে হত্যার উদ্দেশে হামলা চালায়। ক্যাম্পাসের ভেতরেই তারা আমাকে রক্তাক্ত করে।”
পাভেল অভিযোগ করে বলেন, “সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো, আমি রক্তাক্ত অবস্থায় কলেজ প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাইতে গেলেও তারা সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করেছে।”
ছাত্রদল নেতার উপস্থিতিতে কর্মীকে কোপানের বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফুল আলম আবির বলেন, “আমি এখন ব্যস্ত রয়েছি, পরে কথা বলব।”
ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সানোয়ারা সুলতানা বলেন, “আহত শিক্ষার্থী আমাদের বলেছিল, ছাত্রলীগ ও বহিরাগতরা হামলা করেছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, ঘটনাটি তাদের ব্যক্তিগত। কোনো এক মেয়ের সঙ্গে আলাপ নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে।”
এ বিষয়ে জানতে বাসন থানার ওসি হারুনুর রশিদের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করেন এই প্রতিবেদক। তিনি বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই খোঁজ নিচ্ছি।”