সারা বাংলা

পদ্মায় বাসডুবি: বেঁচে ফেরার রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতা জানালেন খাইরুল

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় বাসডুবির মুহূর্তে নিজের আসন থেকে কীভাবে নদীতে ছিটকে পড়েন এবং সাঁতরে পন্টুনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের সাহায্যে ওপরে উঠেন তারই শ্বাসরুদ্ধকর অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন খাইরুল।

তিনি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের কুদ্দুস খাঁর ছেলে। খাইরুল নদীতে পড়ে যাওয়া সৌহার্দ্য পরিবহনের বি-২ সিটের যাত্রী ছিলেন।

খাইরুল বলেন, “বাসটি চালক নিজেই চালাচ্ছিলেন। নদীতে পড়ে যাওয়ার সময় চালকের সহকারী ও সুপারভাইজার বাইরে থাকায় তারা প্রাণে বাঁচেন। বৃহস্পতিবার চালকের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।”

পড়ে যাওয়া মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “আমি বি-সিটের যাত্রী ছিলাম। আমার পাশের সিটে ছিলেন সাদা রংয়ের টি-শার্ট পরা এক যুবক। খোকসা স্ট্যান্ড কাউন্টার থেকে উঠেছিলেন তিনি। বাসটি ফেরিঘাটে পৌঁছালে তিনি নিচে নামেন; আবার কয়েক মিনিট পর ফিরে আসেন। তাকে বসতে উঠে দাঁড়াই। তখনই বাসটি ফেরিতে উঠতে গিয়ে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিয়ে নদীতে পড়ে যায়। অলৌকিকভাবে আমি বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে নদীতে পড়ে যাই।”

খাইরুল বলেন, “নদীতে কয়েকজন ভাসছিলাম। ফেরি ও পন্টুনে থাকা লোকজনের সাহায্যে উপরে উঠে জীবন বাঁচাই। তবে আমার পাশের সিটের ওই টি-শার্ট পড়া যুবকের আর দেখা পাইনি।”

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের তিন নম্বর পন্টুন থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।