হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে দিনদিন বেড়েই চলেছে যাত্রীদের মোবাইল চুরির ঘটনা। অসচেতনতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই কাজটি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে চুরির ঘটনায় নিটন মিয়া, আকাশ মিয়া ও আলামিন মিয়া নামে তিনজনকে পুলিশ দিয়েছে স্থানীয় জনতা।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) আটক তিনজনকে আদালতে পাঠায় শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশ। এ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহ আলম মিয়া বলেন, তিনজনকে মোবাইল চুরির অভিযোগে বুধবার আটক করে স্থানীয় জনতা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা যাত্রীতে মুখরিত থাকে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে। ভিড়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে চোরচক্রের সদস্যরা কখনো যাত্রী সেজে, কখনো হকার বা ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে প্লাটফর্ম ও ট্রেনের ভেতরে অবস্থান নেয়। সুযোগ বুঝে তারা যাত্রীদের মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিয়ে সটকে পড়ে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। চোরচক্র অত্যন্ত কৌশলে কাজ করে এবং চুরি করা মোবাইল দ্রুত অন্যত্র পাচার করে ফেলে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তারা জানান, স্টেশনে সিসিটিভি ক্যামেরা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা জোরদার এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে চোরচক্রকে দমন করা সম্ভব। অন্যথায় এই জংশনে যাত্রীদের নিরাপত্তা আগামীতে আরো ঝুঁকির মুখে পড়বে।
শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশন দিয়ে ট্রেনে যাতায়াত করেন শিপন মিয়া। সম্প্রতি তার মোবাইল চুরি হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই জংশনে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম টিকিট কাটার জন্য। যখন লাইনে দাঁড়াই তখন পকেটে মোবাইল ফোন ছিল। পরে পকেটে হাত দিয়ে দেখি ফোনটি আর নেই। বুঝতে বাকি ছিল না এটি চোরের কাজ।”
অপর যাত্রী আজমল আলী জানান, ট্রেনে উঠার সময় ধাক্কাধাক্কির মধ্যে হাতে থাকা ফোনটি কেউ একজন ছিনিয়ে নেয়। পরে আর খুঁজে পাননি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। তারা দ্রুত রেলওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহ আলম মিয়া জানান, মোবাইল চুরি রোধে টহল জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীদেরও সচেতন থাকতে আহ্বান জানানো হয়েছে।