টাঙ্গাইলের কালীহাতী থেকে আরেকটি পরিবারের কবরযাত্রা শুরু হলো। ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে তেল শেষ হয়ে যাওয়া বাস থেকে নেমে রেললাইনে বসে অপেক্ষা করার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হন একই পরিবারের তিনজন। এই ঘটনায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা পাঁচ।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) ছোট ছেলে ও বিয়াইনকে নিয়ে গাজীপুরে ফিরছিলেন গাইবান্ধার নার্গিস বেগম। তাদের বহনকারী বাসটি কালীহাতীর ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের ধলাটেংগর এলাকায় এলে তেল ফুরিয়ে যায়। বাসটি রেললাইনের পাশে তেলের জন্য দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকায় যাত্রীদের অনেকে নেমে পড়েন। নার্গিসরা রেলাইনের ওপর বসে ছিলেন। তখন তাদের ওপর উঠে যায় ট্রেন। সেখান থেকে শুরু হয় তাদের কবরযাত্রা।
ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতার মধ্যে দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে পাম্পে পাম্পে হুলস্থূল কাণ্ড দেখা যাচ্ছে। ‘সংকট নেই’ বলে সরকার বারবার আশ্বস্ত করলেও পাম্পে গিয়ে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত তেল। গাইবান্ধা থেকে ছেড়ে আসা বাসটিও তেলের সংকটে পড়ে মাঝপথে দাঁড়িয়ে ছিল।
বৃহস্পতিবার প্রাইভেটকারে ঢাকায় ফেরার পথে কুমিল্লার কালাকচুয়ায় বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারানো একই পরিবারের চারজনকে লাশ হয়ে ফিরতে হয় লক্ষ্মীপুরে সদরে তিরারকান্দি গ্রামে। শুক্রবার সেখানে তাদের দাফন হয়েছে।
দুটি পরিবার আয়ের জন্য ঢাকা ও গাজীপুরে থাকতো। আবার তাদের কর্মব্যস্ত সময় পার করার কথা ছিল, যা চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেল ফিরতি পথের মাঝে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে কালীহাতীর ধলাটেংগর এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে নিহতরা হলেন: গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার পূরাব নিজপাগা গ্রামের হামিদুল ইসলামের স্ত্রী নার্গিস (৩৫), তার ছেলে নিরব (১২), নার্গিসের বড় ছেলের শাশুড়ি দোলা (৩৫), একই এলাকার রাইজেল মিয়ার ছেলে সুলতান (৩৩) ও আব্দুর রশিদের মেয়ে রিফা (২৩)।
নার্গিসরা যে বাসে ঢাকায় ফিরছিলেন, সেই বাসের অন্য যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধলাটেংগর এলাকায় হঠাৎ বাসের তেল শেষ হয়ে যায়। তখন চালক-হেলপার মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশে বাসটি দাঁড় করিয়ে তেল আনতে যান। প্রায় ১ ঘণ্টার বেশি বাসটি একই স্থানে দাঁড় করানো ছিল। এসময় যাত্রীদের অনেকে প্রস্রাব করতে নামেন। কেউ কেউ নেমে রেললাইনে বসে ছিলেন এবং ফোনে কথা বলছিলেন। তখন ট্রেনে এসে পড়ে। অনেকে ট্রেনের হুইসেল ও শব্দ শুনতে না পাওয়ায় সময়মতো সরে যেতে পারেননি।
আরো জানা যায়, বাসের যাত্রীরা বেশিরভাগ গার্মেন্ট কর্মী ছিলেন। একজন শিশু ছাড়া সবাই কর্মস্থলে যোগ দিতে গাজীপুরে ফিরছিলেন।
টাঙ্গাইল রেলস্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মিজানুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি আরো বলেন, টাঙ্গাইল থেকে ছেড়া আসা সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হয়েছেন এই পাঁচজন।