জ্বালানি তেলের সংকট এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া মোটরসাইকেলে পেট্রোল বা অকটেন বিক্রি না করার নির্দেশনার কারণে গত কয়েক দিনে বগুড়ায় ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারী বেড়েছে।
বগুড়া জেলায়ও পাম্পে তেল নিতে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকার বিষয়ে কড়াকড়ি করা হচ্ছে। সোমবার (৩০ মার্চ) বগুড়া বিআরটিএ কার্যালয় ঘুরে এমন তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আগে যেখানে প্রতিদিন সীমিতসংখ্যক আবেদন জমা পড়তো, গত কয়েক দিনে তা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘদিন কাগজপত্র ছাড়াই মোটরসাইকেল চালানো অনেকে এখন জ্বালানি না পাওয়ার শঙ্কায় বৈধ কাগজপত্র করতে বিআরটিএর দ্বারস্থ হচ্ছে।
সম্প্রতি বগুড়া জেলা প্রশাসন পাম্পে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করে। ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট এবং মোটরসাইকেলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কোনো গ্রাহককে তেল দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।
বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে চেকপোস্ট বসিয়ে কাগজপত্র যাচাই করা হবে। প্রতিটি পাম্পে এ সব নির্দেশনা সংবলিত ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হবে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কঠোর মনিটরিং চালানো হবে।
বগুড়া বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন বেড়েছে। গত তিন দিনে ৬১টি আবেদন জমা পড়েছে। যেখানে ২০টিও পড়ার কথা নয়।
তিনি আরো জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে ৬টি পরীক্ষায় ১ হাজার ১০০ জন লাইসেন্সের জন্য অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে ৬৪০ জন উত্তীর্ণ হন। মার্চে ৪টি পরীক্ষায় ৮৮০ জন অংশ নেন এবং এর মধ্যে তিনটি পরীক্ষায় ৪৪২ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।
রাজশাহী বিভাগীয় পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি মিজানুর রহমান রতন জানান, বগুড়া জেলায় ৭৮টি তেলের পাম্প রয়েছে। তেলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় অর্ধেকের বেশি পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে। তবে তেল সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে। খুব দ্রুতই জেলার সব ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল পৌঁছে যাবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে, জ্বালানি তেল সংকটে জেলায় মোটরসাইকেল বিক্রিতে প্রভাব পড়েনি বরং গত ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে যথেষ্ট বিক্রি হয়েছে।
বগুড়া উত্তরা বাইক সেন্টারের ডিলার শাজাহান আলী প্রামাণিক জানান, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে মোটরসাইকেল বিক্রিতে এখনো প্রভাব পড়েনি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট ৪২০টি মোটরসাইকেল বিক্রি করেছেন। এর মধ্যে শুধু মার্চ মাসে বিক্রি হয়েছে ২০০টি।
তিনি বলেন, ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর বিক্রি ভালো হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও বিক্রি বেড়েছে। আগের বছর ঈদুল ফিতরে ২২০টি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছিল।