দিনাজপুরের হিলিতে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামানোর জন্য ২৪ দিন বয়সী শিশুর হাতের আঙুল কেটে ফেলা এবং শরীরে আগুনের ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মা-বাবার বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় হিলি পৌর এলাকার চুড়িপট্টি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পুলিশ।
অভিযুক্তরা হলেন- একই এলাকার বাসিন্দা শিশুটির মা খাদিজা বেগম এবং বাবা সাগর হোসেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহাগ ও মহব্বত জানান, জন্মের কিছুদিন পর থেকেই মা খাদিজা বেগম নিজ হাতে শিশুটিকে নির্যাতন শুরু করেন। মা-বাবা উভয়ই মাদকাসক্ত হওয়ায় মাদকের টাকা জোগাড় করতে শিশুটিকে প্রতিবন্ধী বানিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামানোর পরিকল্পনা করেন তারা। তাদের ধারণা ছিল, পঙ্গু শিশুকে দেখে মানুষ বেশি ভিক্ষা দেবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথমে মা শিশুটির হাতের আঙুল কেটে দেন। পরে বাবা সাগর হোসেন বিচ্ছিন্ন আঙুলগুলো পাশের পুকুরে ফেলে দিয়ে প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা করেন। শিশুটির কান্না ও চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত পুলিশে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. তাওহীদ জামান বলেন, “শিশুটির ডান পায়ে পুরনো পোড়া ক্ষত রয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। এছাড়া ডান হাতের আঙুলগুলো কাটা। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন জানান, চুড়িপট্টি এলাকা থেকে অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরকে জানানো হলে তারা শিশুটির দায়িত্ব গ্রহণ করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি খরচে শিশুটিকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তিনি জানান, মানবিক কারণে শিশুটির সঙ্গে মা-বাবাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত করে শিশুটির মা-বাবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।