সারা বাংলা

গোপালগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত তোহার বাড়িতে চিকিৎসক দল

হামের উপসর্গ নিয়ে গোপালগঞ্জে ১০ মাসের শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুকের নেতৃত্বে চিকিৎসক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে চিকিৎসকেরা ভুক্তভোগী মুকসুদপুর উপজেলার টেংরাখোলা ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গা গ্রামের তুহিন শেখের বাড়িতে যান। তারা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও আশপাশের মানুষের কথা বলেছেন। 

এ সময় মুকসুদপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক রায়হান ইসলাম শোভন, ডা. দীপ সাহা, গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. দিবাকর বিশ্বাস এবং ওই এলাকার স্বাস্থ্য সহকারী খোরশেদা মল্লিক ডলি উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৭ মার্চ হোগলাডাঙ্গা গ্রামের তুহিন শেখের তৃতীয় সন্তান ১০ মাসের তুবা ইসলাম তোহা হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যায়। গত ১৯ মার্চ তার জ্বর দেখা দেয়। পরে শ্বাসকষ্ট ও সারা শরীরে হাম দেখা দেয়।

সোমবার (৩০ মার্চ) সিভিল সার্জন আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বিত সভা করেছেন। সেখানে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. রায়হান ইসলাম শোভনকে প্রধান করে মুকসুদপুর হাসপাতালে  কর্মরত চিকিৎসকদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়।

সিভিল সার্জন আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ‘‘আমি চিকিৎসকদের একটি দল নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও আশপাশের মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। আশপাশের কয়েকটি এলাকায় আমরা লিস্ট করছি। যারা হামের টিকা পায়নি, তাদের টিকা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। এছাড়া জেলা ও উপজেলায় কর্মরত চিকিৎসকদের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের জ্বরে আক্রান্তদের পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’’ 

তিনি আরো বলেন, ‘‘গোপালগঞ্জে ৬ জন সম্ভব্য হামের রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাদের অবস্থা ভালো। আমরা তাদের নমুনা নিয়েছি। গুরত্বের সঙ্গে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আর যে শিশুটি হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে, তার ব্যাপারে আমরা নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছি না। কারণ বাচ্চাটি ৫ দিনে আগে মারা গেছে। তার নমুনা সংগ্রহ করাও সম্ভব হচ্ছে না। তবে, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’’

গোপালগঞ্জে হামসহ সব ধরনের রোগের ভ্যাকসিন পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। 

সিভিল সার্জন আরো জানান, জেলার সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র-আইসিইউ খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। দ্রুততম সময়ে এ কার্যক্রম শুরু করা হবে।