সারা বাংলা

সিলেটে পাম্প বন্ধে বিপাকে যানবাহন চালকরা

‘অযৌক্তিক’ জরিমানা ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির প্রতিবাদে সিলেট বিভাগজুড়ে পেট্রোল পাম্পে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউশন এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগের ডাকা এই কর্মসূচির ফলে সিলেট নগরীর সব পাম্প বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে। ফলে জ্বালানি না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন পরিবহনের চালক ও মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা।

বুধবার (১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পাম্প বন্ধের সিদ্ধান্তর কথা জানান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউশন এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন আহমেদ। 

পাম্প মালিকদের অভিযোগ, বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে ঘনঘন তদারকি, ট্যাগ অফিসার নিয়োগ, পুলিশ মোতায়েন এবং কয়েকটি পাম্পে বড় অঙের জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। এসব কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে সিএনজি ও এলপিজিসহ কোনো পাম্প পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি তাদের।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন পাম্পে তেল নিতে গিয়ে ফিরে গেছেন যানবাহনের চালকরা। কোথাও কোথাও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল বা গ্যাস না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে দেখা গেছে অনেককে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত পরিস্থিতির সমাধান না হলে যানবাহন সংকট তৈরি হয়ে জনদুর্ভোগ বাড়তে পারে।

সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক কবির আহমদ বলেন, “পাম্প বন্ধ থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ মানুষ। কারণ তারা একস্থান থেকে দূরের অন্য কোনো স্থানে যেতে পারবেন না।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেট নগরের আম্বরখানা এলাকার এক পাম্পকর্মী জানান, ঘোষণার পর রাত থেকেই পাম্পের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। সকাল থেকে অনেক পরিবহন চালক তেল ও গ্যাস নিতে পাম্পে আসেন। কাউকেই তেল ও গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউশন এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন আহমেদ বলেন, “বুধবার অযৌক্তিকভাবে আমাদের ছয়টি পাম্পকে জরিমানা করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ একটি কারিগরি বিষয় বুঝতে চাওয়া হচ্ছে না। পাম্পের রিজার্ভার একবারে নিচে নেমে গেলে মেশিন দিয়ে তেল সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। প্রশাসন এই বিষয়টি আমলে না নিয়ে ‘তেল থাকা সত্ত্বেও দেওয়া হচ্ছে না’-এই অভিযোগে আমাদের জরিমানা করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।” 

তিনি বলেন, “সাপ্লাইয়ের সমস্যার কারণে অনেক মালিক বাধ্য হয়ে এক গাড়ির তেল দিয়ে নিজের একাধিক পাম্প চালানোর চেষ্টা করছেন, সেখানেও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। নানা অজুহাতে জরিমানা করা হচ্ছে। এসবের প্রতিবাদেই আমাদের এই কর্মসূচি।”

এই নেতা বলেন, “উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় আমরা জরুরি সভা আহ্বান করেছি। সভায় পেট্রোল পাম্প মালিক, সিএনজি পাম্প মালিক এবং ট্যাঙ্ক-লরি মালিকরা উপস্থিত থাকবেন। নিজেদের মধ্যে আলোচনার পর আমরা সিদ্ধান্ত নেব করব এবং এরপর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে আমাদের বৈঠকের কথা রয়েছে। আমাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও ব্রিফিং সভার পরেই জানানো হবে।”