জ্বালানি তেলের সংকটের মধ্যে নড়াইলে সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে জমিতে সেচ কাজ করছেন কৃষকরা। পরিবেশবান্ধব সোলার প্যানেল প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা ধানসহ বিভিন্ন সবজির ক্ষেতে প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিতে পারছেন। ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ কমে আসায় খুশি তারা।
নড়াইল সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট (ডিএই পার্ট) প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নে দুটি বিলে সৌরবিদ্যুৎ চালিত (অগভীর নলকূপ) সেচপাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এসব পাম্প থেকে দৈনিক ৮ ঘণ্টায় ৪ লাখ লিটার পানি তোলা সম্ভব হচ্ছে। সৌরবিদ্যুতের আওতায় থাকা ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জমিতে তিনদিন পর পর সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ফলে কৃষকদের সেচ খরচ যেমন কমেছে, তেমনি পানির সরবরাহও নিশ্চিত হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে চাচড়ার বিলে গিয়ে দেখা যায়, বোরো মৌসুমে এ বিলে পানির কোনো সংকট নেই। মাঠজুড়ে সবুজ ধানের চারা বাতাসে দোল খাচ্ছে। কোনো কোনো জমিতে সেচ দিয়ে পাটের বীজতলা তৈরি করছেন কৃষকরা।
কৃষক ইকবাল হাসান বলেন, “সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্পের কারণে আমরা স্বল্প খরচে বোরো ধানে সেচ দিতে পারছি। আমাদের ডিজেলের জন্য পাম্পে গিয়ে লাইন দিতে হচ্ছে না। অন্যান্য জায়গায় কৃষকরা সেচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন,তবে আমাদের কোনো দুশ্চিন্তা নেই।”
বামনহাট গ্রামের কৃষক শিশির মুখার্জি বলেন, “ডিজেল তেলের লিটার ২০০ টাকা। এরপরও সময় মতো তেল পাচ্ছে না কৃষক। সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্পের মাধ্যমে ধান ক্ষেত সেচ দেওয়ায় আমাদের কোনো চিন্তা নেই। শুধু সূর্যের আলো থেকে আমরা জমি সেচ দিতে পারছি। সব কিছু হচ্ছে। আমাদের তেলের দরকার পড়ছে না। আশা করছি, ফসলের ভালো ফলন আমরা ঘরে তুলতে পার।”
তিনি বলেন, “সরকারের কাছে দাবি থাকবে, তারা যেন কৃষকদের সুবিধায় সৌরবিদ্যুৎ চালিত আরো পাম্প স্থাপন করে। যাতে বোতল নিয়ে আমাদের আর পাম্পে গিয়ে বসে থাকা না লাগে।”
নড়াইল সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বৃহস্পতিবার বলেন, “জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এ প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত দুটি সোলার পাম্প বর্তমানে কৃষকরা যৌথভাবে পরিচালনা করছেন। বর্তমানে দুই থেকে তিন দিন পর পর প্রায় ৬০ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের ব্যবস্থা আরো সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকদের ফসল উৎপাদনের খরচ কমবে এবং তারা উপকৃত হবেন।”