সারা বাংলা

রমেক হাসপাতালে হাম রোগী বাড়ছে, তবে পরীক্ষার ল্যাব নেই

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সাত শিশু ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে গত ১০ দিনে ১৩ শিশু ভর্তি হলো। চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ায় তিন শিশুকে আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের হাম কর্নারের ১০টি শয্যার কোনোটিই এখন ফাঁকা নেই।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম রোগ শনাক্তের ল্যাব নেই। রোগীদের উপসর্গ দেখে আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে রমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আয়েশা সুলতানা বলেন, আরো রোগী ভর্তি হওয়ার জন্য আসছে। শয্যা সংকট দেখা দেওয়ায় আরেকটি কক্ষ প্রস্তুত করা হচ্ছে। 

রমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের শিশু বিভাগের তিনটি ওয়ার্ডে মোট শয্যা ১২০। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিল ২২৯ জন। শয্যার চেয়ে দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকছে। 

চিকিৎসক ও নার্সেরা বলছেন, আসন অনুপাতে দ্বিগুণ রোগীর চাপে এমনটিতে তারা হিমশিমে খাচ্ছেন। এর ওপর হাম সংক্রামক ব্যাধি হওয়ায় আলাদা কক্ষ (আইসোলেশন) প্রয়োজন হচ্ছে। এতে অন্য রোগীদের গাদাগাদি করে রাখতে হচ্ছে। 

হাসপাতাল সূত্র বলছে, হাম উপসর্গ নিয়ে বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল থেকে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ৭ শিশুর মধ্যে ৬ জন ছেলে শিশু। ২ শিশুর বয়স ৫ থেকে ৯ মাসের মধ্যে। ১০ মাস থেকে ২ বছর ৬ মাস বয়সী ৩ শিশু। আর ২ শিশুর বয়স সাড়ে ৮ বছর থেকে সাড়ে ৯ বছর।  

ভর্তি হওয়ায় ৭ শিশুর মধ্যে রংপুরের সিটি করপোরেশন, গঙ্গাচড়া, তারাগঞ্জ ও পীরগাছা উপজেলার চারজন। দিনাজপুরের পার্বতীপুর, নীলফামারী সদর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার একজন করে। এই শিশুরা জ্বর, কাশি, ফুসকুড়ি ও পায়লা পায়খানাতে ভুগছেন। 

হাম আক্রান্ত এক শিশুর বাবা আব্দুস সবুর জানান, বুধবার (১ এপ্রিল) তার ৯ মাস বয়সী বাচ্চাকে এখানে ভর্তি করেছেন। তাকে আলাদাভাবে চিকিৎসাও দেওয়া হচ্ছে। শরীরে জ্বরের সঙ্গে ফুসকুড়ি উঠেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এটি হাম রোগ কিন্তু এখানে পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। 

হাম উপসর্গে আক্রান্ত হওয়া পাঁচ মাস বয়সী আরিয়ান মাহমুদের মা জান্নাতুল লিসা বলেন, তাঁদের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ হলেও তাঁর স্বামীর কর্মসূত্রে রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুরে থাকেন। তিনি বলেন, ২৬ মার্চ থেকে বাচ্চার জ্বর, সর্দি। বুধবার (১ এপ্রিল) থেকে ফুসকুড়ি বের হয়েছে। সন্ধ্যায় ভর্তি করেছেন। যেগুলো ওষুধ, ইনজেকশন আছে, উনারা দিচ্ছে। বাইরে থেকেও কিনতে হচ্ছে। 

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, গত তিন দিন ধরে প্রতিনিয়ত হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। হাসপাতালে পরীক্ষার ল্যাব না থাকায় প্রাথমিক পর্যায়ে উপসর্গ অনুমানে আলাদা ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা চলছে। পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। এ রোগে চিকিৎসার পর্যাপ্ত প্রস্তুতির কথা জানান তিনি।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. গওসুল আজিম চৌধুরী বলেন, “হাম মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।” তিনি আরো জানান, এখন পর্যন্ত বিভাগে হামজনিত মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের তিন মাসে রংপুর বিভাগে দুই শতাধিক উপসর্গভিত্তিক রোগী শনাক্ত হলেও পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে ২৬ জন। এখন পর্যন্ত মৃত্যুর তথ্য নেই।