সারা বাংলা

কুষ্টিয়ায় শরীরে পেরেক ঢুকিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক যুবকের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে। হাত-পা ও মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে পেরেক ঢুকিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। বর্তমানে ভুক্তভোগী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ধর্মদহ পূর্বপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।

নির্যাতনের শিকার যুবকের নাম সুজন (৩২) আলী। তিনি ধর্মদহ পূর্বপাড়া গ্রামের উকিল ফকিরের ছেলে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে সুজন আলী তার জমিতে কাজ করছিলেন। পূর্ব শত্রুতার জেরে স্থানীয় কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায়। অভিযুক্তরা তাকে ধরে হাত-পা ও মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলে। পরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পেরেক ঢুকিয়ে নির্যাতন চালায়। হাতুড়ি, রড ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় তাকে। 

হামলাকারীরা চলে গেলে স্থানীয় লোকজন গুরুতর অবস্থায় সুজনকে উদ্ধার করে দৌলতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সুজন আলীর দুলাভাই ছানারুল ইসলাম বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে গোলাম কিবরিয়া বিষা (৬৫), তার ছেলে হাসানুর রহমান বাবু (৪২), নাতি মো. বাপ্পি (১৯), স্ত্রী পানছুরা খাতুন (৬০), গরুড়া এলাকার মো. মদন (৫০) ও তার ছেলে মো. মিনারসহ (২৮) অজ্ঞাত ২-৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। 

সুজন আলীর মামা শফিরুল ইসলাম জানান, পূর্ব শক্রতার জেরে পরিকল্পিতভাবে সুজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ নির্মম হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, “অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”