জ্বালানি তেলের সংকটের মধ্যে নড়াইলের লোহাগড়ায় ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন দুই ভাই। মোটরসাইকেল চালাতে তারা আর পাম্পে পাম্পে গিয়ে ধর্ণা দিচ্ছেন না। কৌশল করে মোটরসাইকেলটিতে বসিয়েছেন রান্না করার গ্যাস সিলিন্ডার। সেই গ্যাসেই চলছে তাদের গাড়ি। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের রাধানগর বাজারে। বিষয়টি এলাকার মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
জ্বালানি হিসেবে মোটরসাইকেলে গ্যাস সিলিন্ডার বসানো দুই ভাই হলেন সোহেল শেখ ও জীবন শেখ। তারা পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত তিন বছর ধরে দুই ভাই বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক্স পণ্য ও যন্ত্রপাতি মেরামত করেন। গ্যাস সিলিন্ডার থেকে পাইপ দিয়ে কার্বুরেটরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে তারা নিজেদের মোটরসাইকেলকে সম্পূর্ণ গ্যাসনির্ভর করেছেন।
সোহেল শেখ ও জীবন শেখ জানান, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে পাম্পে তেল নিতে নানা ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও অনেক সময় তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে তারা চিন্তা করেন গ্যাসের সিলিন্ডার দিয়ে গাড়ি চালানো যায় কিনা। দুর্ঘটনা বা নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে পাইপ দিয়ে মোটরসাইকেলে মডিফাই করা কার্বুরেটরের সঙ্গে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। মোটরসাইকেলটি ভালোভাবে চলছে। মোটরসাইকেলের পেছনে সিলিন্ডার থাকায় দু’জন বসতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বলেও জানান তারা।
জীবন শেখ বলেন, “গ্যাস সিলিন্ডারে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে খরচ অর্ধেকে নেমে এসেছে। পেট্রোল ও ডিজেলের খরচের তুলনায় গ্যাস দিয়ে চালানো হলে অর্ধেক খরচ হবে। পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হচ্ছে। সফল হলে গ্যাস দিয়েই মোটরসাইকেলটি চালাব।”
রাধানগর বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী জাবের আলী বলেন,‘এতদিন জানতাম পাম্প থেকে নেওয়া গ্যাস দিয়ে যানবাহন চলে। তবে, রান্না করার জন্য ব্যবহৃত গ্যাসে মোটরসাইকেল চলতে পারে তা জানতাম না। এই প্রযুক্তি যদি নিরাপদ হয়, তাহলে পেট্রোল-অকটেনের ঝামেলা থাকবে না। খরচ কমে আসবে।”
ঝুঁকির কথা তুলে ধরে আব্দুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি বলেন, “সবার আগে নিরাপত্তা প্রয়োজন। সিলিন্ডার বা পাইপ লিকেজ থেকে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এতে শুধু মোটরসাইকেল এবং তার আরোহীর ক্ষতি হবে না, আশপাশের মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।”
রাধানগর বাজারের বনিক সমিতির সভাপতি আরোজ আলী বলেন, “ইলেকট্রিক মিস্ত্রি সোহেল ও জীবন রান্না করা গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে মোটরসাইকেল চালানোর ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খবরটি শুনে অনেকেই বাজারে দেখতে আসছে।”