সারা বাংলা

ব্যালেন্স ট্রেনে স্বস্তি, তবে সিলেটের যাত্রীরা চান স্থায়ী সমাধান

হবিগঞ্জে তেলবাহী ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার কারণে সৃষ্ট সিডিউল বিপর্যয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। তাদের জন্য সিলেট-ঢাকা রুটে একটি বিশেষ ট্রেন চালু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ‘ব্যালেন্স এক্সপ্রেস’ নামে এক দিনের এই বিশেষ ট্রেন যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি আনলেও স্থায়ী সমাধানের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতের ওই দুর্ঘটনার কারণে সিলেট থেকে উপবন এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল হয়। শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় কালনী এক্সপ্রেসও চলাচল করেনি। ফলে, ঢাকাগামী যাত্রীরা পড়েন চরম ভোগান্তিতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় সিলেট রেলওয়ে স্টেশন থেকে ব্যালেন্স এক্সপ্রেস ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়।

বিশেষ ট্রেনটি কুলাউড়া, শায়েস্তাগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল ও ঢাকার বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছায়। ১৪ বগির এই ট্রেনটি পরিচালনা করা হয়েছে, যাতে বেশি সংখ্যক যাত্রী সেবা নিতে পারেন।

স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, হঠাৎ বিশেষ ট্রেন চালুর ঘোষণায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। পরিবার-পরিজনসহ অনেকে যাত্রা করছেন। তাৎক্ষণিকভাবে টিকিট পেয়ে তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

যাত্রী মো. শাহিন আহমেদ বলেন, “হঠাৎ করে এই ট্রেন চালু হওয়ায় আমরা অনেক উপকার পেয়েছি। তা না হলে আজ ঢাকায় যাওয়া কঠিন হয়ে যেত। এমন সমস্যা অনেক বারেই হয়, তাই স্থায়ীভাবে ট্রেন বাড়ানো দরকার।”

শ্রীমঙ্গলের বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, “পরিবার নিয়ে যাচ্ছি। শেষ মুহূর্তে টিকিট পেয়ে ভালো লাগছে। কিন্তু, এক দিনের জন্য ট্রেন দিলে তো সমস্যার সমাধান হয় না। ট্রেন বাড়ানো হলে ভোগান্তি কমবে।”

সিলেট নগরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেছেন, “সড়কপথে এখন অনেক সময় লাগে, তাই আমরা ট্রেনেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। আজকের মতো উদ্যোগ ভালো। কিন্তু, এটা যেন শুধু এক দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে।”

যাত্রীরা জানান, সিলেট-ঢাকা রুটে দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রীচাপ বেশি। মাঝে মাঝে দুর্ঘটনা বা সিডিউল বিপর্যয়ে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে ওঠে। তাই, এই রুটে বেশি ট্রেন চালু করা দরকার।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন বলেছেন, “যেহেতু, বুধবার একটি দুর্ঘটনা হয়েছিল, সেজন্য আমাদের ট্রেনের সিলেট-ঢাকা রুটে শিডিউল বাতিল করতে হয়েছে। তাই, একটি স্পেশাল ট্রেন চালু করা হচ্ছে। যেটি শুধু এক দিনের জন্য চলাচল করবে, এটা নিয়মিত নয়।”