সারা বাংলা

ফেসবুকে ঠিকানা পেয়ে ৪০ বছর পর বাড়ি ফিরলেন আঞ্জুমান আরা

প্রায় ৪০ বছর আগে অভাবের তাড়নায় কাজের সন্ধানে এক প্রতিবেশীর সঙ্গে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার আঞ্জুমান আরা। ওই সময় ৯ বছর বয়সী আঞ্জুমান আরা ঢাকার একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নিয়েছিলেন। কিন্তু, নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান।

পরে এক নারীর সহায়তায় আশ্রয় পান একটি এতিমখানায়। সেখান থেকেই শুরু হয় তার নতুন জীবন। এর পর পোশাক কারখানায় কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হয় শ্রীমঙ্গলের সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। প্রেম থেকে হয় বিয়ে। স্বামী-সন্তানদের নিয়ে আঞ্জুমান আরার সংসার সুখে কাটলেও মনের ভেতর সব সময়ই ছিল জন্মভূমিতে ফেরার আকাঙ্ক্ষা। কয়েকবার চেষ্টা করেও ‘শেরপুর‘ নাম বিভ্রাটের কারণে বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় না গিয়ে চলে যান শেরপুর জেলায়। তাই, খুঁজে পাননি নিজের ঠিকানা।

অবশেষে ৪০ বছর পর ফেসবুকে খুঁজে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মহিপুর কলোনিতে নিজের বাড়ির সন্ধান পান আঞ্জুমান আরা। এলাকাবাসীর একজনের মাধ্যমে ভাগ্নে মনির ও ময়নুলের সঙ্গে ফেসবুকে যোগাযোগ হয়। এর পর শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন আঞ্জুমান আরা। তবে, বাড়িতে ফিরে বাবা-মায়ের মুখ দেখতে পাননি।

আঞ্জুমান আরা স্বামী-সন্তানদের নিয়েই ফিরে আসেন বাবার ভিটায়। বাড়িতে পা রেখেই স্মৃতিচারণে চিনিয়ে দেন নিজের শেকড়। এতে স্বজনরা নিশ্চিত হন যে, তিনিই সেই হারিয়ে যাওয়া আঞ্জুমানারা।

৪০ বছর পর আঞ্জুমান আরা ফিরে আসছেন, এমন খবর পেয়ে এলাকাবাসীও ব্যাপক কৌতুহল নিয়ে ভিড় করেন তাদের বাড়িতে। অনেকেই তাকে একনজর দেখতে ছুটে যান। সবার প্রশ্ন—এত দিন কোথায় ছিলে? কেমন আছ?

দীর্ঘদিন পর বোনকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত বড় বোন আলোয়া খাতুন। তিনি বলেন, “আমরা অনেক খোঁজ করেছি, কিন্তু আঞ্জুমান আরার সন্ধান পাইনি। অনেকেই বলেছিল, সে হয়ত আর বেঁচে নেই। আমরা আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। আজ তাকে জীবিত পেয়ে যে কী আনন্দ হচ্ছে, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।”

আঞ্জুমান আরা জানান, দীর্ঘ ৪০ বছরে তিনি এক মেয়ে ও তিন ছেলের মা হয়েছেন। তার সন্তানদের নাম সালমা খাতুন, মোহাম্মদ সালমান, রেদওয়ান ও শেহজাদ। বড় ছেলেকে বিয়ে দিয়েছেন, তার ঘরে আছে চার বছরের নাতি ইয়াসিন আলী। স্বামী-সন্তান নিয়ে এখন তার ভরা সংসার। সংসারজীবনে সুখ থাকলেও তার প্রায়ই বাবা-মাকে দেখতে ইচ্ছে করত। জন্মভিটায় ফিরতে ইচ্ছে করত। এজন্য তিনি কয়েকবার চেষ্টাও করেছেন। শুধু তার স্মরণে ছিল—বাড়ি শেরপুর। কিন্তু, সেটা বগুড়ার শেরপুর নাকি জেলা শেরপুর, এটা স্মরণ করতে পারছিলেন না। তাই, ৩০ বছর আগে তিনি শেরপুর জেলায় গিয়েছিলেন। বাবার বাড়ি খুঁজে না পেয়ে ফিরে গেছেন। সম্প্রতি ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি তার পৈতৃক বাড়ির সন্ধান পান।